মোঃ ইমরুল আহসান
এমটিএফই যার পুরো নাম মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ ইনকর্পোরেটেড। অনলাইন বা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ডলার, শেয়ার বা ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার কানাডা ও দুবাই ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। এমটিএফই অ্যাপস এর মাধ্যমে গ্রাহকদের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানানো হয় এবং লেনদেন পরিচালনা করা হয়। নিজেদের ছায়া প্ল্যাটফরমে ট্রেড করার সুযোগ দিয়ে এই অ্যাপ সম্প্রতি আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে।
বাংলাদেশে এর কোন অফিস না থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়।ঘরে বসে সহজে আয়ের পথ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ইউটিউবে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। বিভিন্ন ভিডিও ও বিজ্ঞাপন দেখে ভুক্তভোগীরা আগ্রহী হয়। সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হয় একজন আরেকজনকে দেখে, এক্ষেত্রে রেফারেল বা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং পদ্ধতিতে কাজ করে এটি। বেশি লাভের আশায় লাখ লাখ মানুষ অ্যাপসটিতে বিনিয়োগ করে। কিছু সংখ্যক মানুষ অবশ্য লাভের কিছু অংশ পায়। তবে চূড়ান্ত বিচারে বিনিয়োগের সব অর্থই খোয়াতে হয় গ্রাহকদের। ঢাকাসহ বরিশাল, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, কুমিল্লা এবং সাতক্ষীরাতে প্রতারণা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে সারাদেশে চার পাঁচ লাখ গ্রাহক এমটিএফই এর মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা খুইয়েছেন।
গুগল প্লে স্টোর থেকে যে কেউ এমটিএফই অ্যাপসটি ডাউনলোড করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারতেন। রেজিস্ট্রেশনের পর তাদের নিজস্ব ওয়ালেটে ট্রেড করার জন্য ডলার রাখতে হতো। ডলারের পরিমাণ অনুযায়ী তাদেরকে প্রতিনিয়ত প্রলোভন দিয়ে লাভের কথা বলা হত। ৫০০ ডলার বিনিয়োগ করলে দিনশেষে পাঁচ হাজার টাকা লাভ হবে—এমন কল্পিত মুনাফার কথাও বলা হত।
রেজিস্ট্রেশনের জন্য ব্যাংকের একাউন্ট এবং জাতীয় পরিচয় পত্র জমা দিতে হয় গ্রাহকদের।ভার্চুয়ালি ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডলার কেনাবেচা করা হলেও লভ্যাংশ দেওয়া হতো মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে।
শুধু এমটিএফই না, দেশে এখনও সক্রিয় আছে অনিবন্ধনকৃত অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক এ ধরনের অনেক প্রতারক চক্র, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এমএলএম ব্যবসা এবং ক্রিপ্টো কারেন্সিতে লেনদেন অবৈধ ও নিষিদ্ধ। সেজন্য অ্যাপস এবং অনলাইন ভিত্তিক যেকোনো ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের যথেষ্ট সতর্কতা এবং সচেতনতাদরকার।
