মো. শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা  প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে, বাড়ির আঙিনায়, ফসলি জমির আইলে, পুকুরপাড়ে ও পতিত জমিতে এখনও সারি সারি দেশি খেজুর গাছের দেখা মেলে। বর্ষা মৌসুমে এসব গাছে থোকায় থোকায় খেজুর ধরলেও মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ ফল গাছেই পচে নষ্ট হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় দেশি খেজুর গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। হাট-বাজারে এসব খেজুর বিক্রি হতো। অনেকে লবণ-পানিতে কয়েক দিন রেখে পাকিয়ে খেতেন। মুখরোচক ও পুষ্টিকর এই ফলের কদর ছিল ব্যাপক। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশি খেজুরের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে অধিকাংশ ফল এখন পাখির খাদ্যে পরিণত হচ্ছে।

সদর উপজেলার তুতবাটি গ্রামের অটোরিকশাচালক ভুলু মোল্লা বলেন, “বর্তমানে দেশি খেজুর মূলত পশুপাখির খাবারে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন খুব একটা খায় না। অথচ একসময় বাজার থেকে কিনে এনে খেয়েছি। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্ট প্রতিটি ফলেরই আলাদা গুণ রয়েছে। এই ফল খাওয়ার অভ্যাস আমাদের আবার গড়ে তোলা উচিত।”

নবীনবাগ এলাকার শাহাবুদ্দিন সুজা বলেন, “ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে অনেক খেজুর খেয়েছি। তখন কলসিতে লবণ-পানিতে দুই-তিন দিন রেখে খেজুর পাকিয়ে খাওয়ার প্রচলন ছিল। এখনকার প্রজন্মের মধ্যে সেই আগ্রহ আর দেখা যায় না। আমরা ধীরে ধীরে আমাদের দেশি ফলগুলো ভুলে যাচ্ছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা সোহাগ সিকদার, রহিম মিয়া, পলাশ কাজী, সোহেল মোল্লা ও বনিউল আলম সবুজ বলেন, আগে ছোট-বড় সবাই দেশি খেজুর খেত। বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন জাতের বিদেশি খেজুর সহজলভ্য হওয়ায় দেশি খেজুরের চাহিদা কমে গেছে। বিদেশি খেজুর আকারে বড় হলেও দেশি খেজুরের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে একসময় এর কদর ছিল অনেক বেশি।

খেজুরের গুড় প্রস্তুতকারী অরুণ ধাবক জানান, তিনি প্রতি শীত মৌসুমে প্রায় ৩০০ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন। বর্তমানে গাছগুলোতে প্রচুর খেজুর ধরলেও সেগুলো সংগ্রহ করেন না।

তিনি বলেন, “সব ফল পাখিদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি। প্রতিদিন শত শত শালিক, বুলবুলি ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এসে খেজুর খায়। তাদের কিচিরমিচির শুনতে খুব ভালো লাগে।”

মিয়া বাড়ির পলাশ শিকদার বলেন, দেশি খেজুরসহ বিভিন্ন মৌসুমি দেশি ফল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এসব ফলে প্রচুর ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই দেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানোর পাশাপাশি এসব গাছ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং নতুন প্রজন্মকে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তা না হলে একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ফল মানুষের জীবন থেকে আরও দূরে সরে যাবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *