মোঃ শিহাব উদ্দিন 
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

একসময় গ্রামের রাস্তার ধারে, খেলার মাঠে, বাড়ির আঙিনায় ও পুকুরপাড়ে প্রচুর কালোজাম গাছ দেখা যেত। বর্ষা এলেই গাছভর্তি পাকা জামের কালো রঙে মুখর হয়ে উঠত গ্রামবাংলা। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন অনেকটাই বিরল। গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন কমে যাচ্ছে কালোজাম গাছের সংখ্যা। ফলে স্থানীয় বাজারেও এ ফলের সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি কালোজাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দশক আগেও গ্রামাঞ্চলে কালোজাম ছিল সহজলভ্য একটি ফল। শিশু-কিশোররা গাছে উঠে জাম পেড়ে খেত, আবার অনেকেই ঝুড়ি ভরে সংগ্রহ করতেন। কিন্তু নগরায়ণ, বসতভিটা সম্প্রসারণ, পরিকল্পনাহীন বৃক্ষনিধন এবং দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ায় কালোজাম গাছ দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।

কৃষিবিদেরা বলছেন, কালোজাম শুধু সুস্বাদু ফলই নয়, এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধিগুণসম্পন্ন। ফলটিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে কালোজামের বীজ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে।

এ ছাড়া কালোজামে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে, হজমশক্তি উন্নত করতে এবং হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ ও ত্বকের সুস্থতা রক্ষাতেও এ ফলের ভূমিকা রয়েছে। ক্যালরি কম ও খাদ্যআঁশ বেশি থাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও এটি উপকারী।

তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, যেকোনো ফলের মতো কালোজামও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত খেলে কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

পরিবেশবিদদের মতে, দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কালোজাম গাছ সংরক্ষণ এবং নতুন করে রোপণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ফলটি নতুন প্রজন্মের কাছে শুধু গল্পের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *