আরিফ রববানী
ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের মূল সূচনা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী।

স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স ও ভিডিও কনফারেন্সের অবহিতকরণে প্রধানমন্ত্রীর সাথে যুক্ত থাকতে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এ প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্য়ালয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক দেবাশীষ সরদার,বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী হায়দার ভূঁইয়া এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহনাজ পারভীন।

কনফারেন্সে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক দেবাশীষ সরদার বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক জ্যেষ্ঠ নারীপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে অতি দরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীপ্রধানেরা নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন। তাঁদের মাসিক ভাতার পরিমাণ হবে ২ হাজার ৫০০ টাকা।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ করা প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো অতি দরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।

পিএমটি স্কোর অনুযায়ী, ৮৬০ বা তার কম স্কোর পাওয়া নারীপ্রধান পরিবারগুলো ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। সব নারীপ্রধান পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেলেও প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত অর্থাৎ নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোই নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ভাতা পাবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী একযোগে খানা বা পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো পরিবার যেন ভুল তথ্যের কারণে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

সদর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান- প্রতিটি পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় এনে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যেই স্বচ্ছ ও আধুনিক পদ্ধতিতে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগকে সফল ভাবে বাস্তবায়ন করতে সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় কাজ করবে।

পরে ​ভিডিও কনফারেন্স ও প্রেস কনফারেন্স শেষে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহের সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজারদের কাজের সুবিধার কথা চিন্তা করে ডিজিটাল সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারের হাতে অ্যান্ড্রয়েড ‘ট্যাব’ হস্তান্তর করেন।

সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *