লুৎফর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক নান্দাইল দীঘি। ৫ অক্টোবর ২০২৬ সোমবার বিকেলে কয়েকজন সাংবাদিক ঐতিহাসিক এ স্থানে ভ্রমণ করতে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে রয়েছে একটি সুন্দর ও মনোরম গেস্ট হাউজ। গেস্ট হাউজের সামনে দুই পাশে বিভিন্ন জাতের ফুলের বাগান রয়েছে। তবে ফুলের বাগানটি সুতার জাল দিয়ে ঘেরা থাকায় এর সৌন্দর্য কিছুটা ম্লান হয়েছে। স্টিলের গ্রিল দিয়ে বাগানটি ঘেরা হলে সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পেত বলে মনে করছেন দর্শনার্থীরা।

গেস্ট হাউজটির পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি প্রবেশপথ রয়েছে। তবে গেটগুলোতে কোনো দরজা না থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দর্শনার্থীদের মতে, নিরাপত্তার স্বার্থে গেটের দুই পাশে দরজা স্থাপন করা প্রয়োজন।

গেস্ট হাউজের পূর্ব পাশে রয়েছে ভাঙা ইটের প্রাচীর। সেখানে সুন্দরভাবে গ্রিলের বাউন্ডারি নির্মাণ করা হলে পুরো পরিবেশটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা জানান, গেস্ট হাউজের পশ্চিম পাশের মাঠটি উঁচু-নিচু হওয়ায় সেখানে চলাচল করতে তাদের পাশাপাশি শিশুদেরও ভোগান্তি পোহাতে হয়। মাটি দিয়ে মাঠটি সমতল করে দিলে দর্শনার্থীদের চলাচল আরও সহজ হবে।

ঐতিহাসিক নান্দাইল দীঘির সৌন্দর্য উপভোগ করতে জয়পুরহাট ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী শিশুদের নিয়ে এখানে আসেন। কিন্তু শিশুদের খেলাধুলার জন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই শিশুদের জন্য একটি খেলার জায়গা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

এছাড়া পানি পান করার জন্য নলকূপ থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই পানিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। ফলে পানি পান করা কষ্টকর ও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য আয়রনমুক্ত ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

গেস্ট হাউজের পাশের মাঠ প্রাঙ্গণে বিস্কুট, চানাচুর, পাউরুটির ঠোঙা, কলার খোসা, বাদামের খোসা, পলিথিন ও কাগজের টুকরাসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে পুরো পরিবেশটি অপরিষ্কার ও দৃষ্টিকটু হয়ে উঠছে। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাস্টবিন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহাসিক নান্দাইল দীঘিকে ঘিরে পড়ে থাকা বিশাল জায়গাজুড়ে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে এটি জয়পুরহাটের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্থানে পরিণত হতে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জেলার পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়বে।

এ অবস্থায় ঐতিহাসিক নান্দাইল দীঘির উন্নয়ন ও দ্রুত একটি আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন দর্শনার্থী ও কালাই উপজেলাবাসী। তারা এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *