মোঃ নাসিরউদ্দিন
ক্রাইম রিপোর্টার
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা চত্বরে ‘উন্নয়ন’ প্রকল্পের নামে হরিলুট ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের শুরু থেকেই অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি ঢালাইয়ের দুই দিন না যেতেই নতুন রাস্তায় ফাটল দেখা দেওয়ায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
উপজেলা গেট থেকে বরেন্দ্র অফিস হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বাসভবন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক ও ড্রেন নির্মাণকাজে এই অনিয়ম চলছে।
প্রকল্পের বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য
প্রকল্পের নাম: মোহনপুর উপজেলা চত্বর উন্নয়ন কাজ
প্রাক্কলিত ব্যয়: ৫২ লাখ টাকা
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: অনিক এন্টারপ্রাইজ
স্বত্বাধিকারী: আলহাজ্ব মমিনুল হক
সাব-ঠিকাদার: বাচ্চু রহমান ও হাসনাত
স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনিয়মের চিত্র
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ইটের খোয়া, বালু ও সিমেন্টের মিশ্রণে চরম অনিয়ম করে আসছেন। নামমাত্র রড ও নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা এবং ড্রেন নির্মাণের কারণে পুরো কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঠিকাদারের লোকজন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে এবং তদারকি কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজে ব্যবহৃত কংক্রিট এতই দুর্বল যে, হাত দিয়েই তা ভেঙে ফেলা সম্ভব—এমনটাই দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এর মধ্যেই ঢালাইয়ের মাত্র দুই দিন পর রাস্তায় ফাটল দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও রহস্যজনক নীরবতা
সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এমন নয়ছয় চললেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই এমন নিম্নমানের কাজ অবাধে চলছে। তদারকি না থাকায় ঠিকাদারের লোকজন খামখেয়ালিভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি
অবিলম্বে এই ৫২ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজের মান নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একইসঙ্গে নিম্নমানের কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিক এন্টারপ্রাইজ এবং সাব-ঠিকাদার বাচ্চু রহমান ও হাসনাত-এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ও ত্রুটিপূর্ণ কাজটি ভেঙে পুনরায় মানসম্মত উপায়ে সম্পন্ন করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *