মোঃ নাসিরউদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বড় শিবপুর কাজিপাড়া গ্রামে মৃত মানুষের মরদেহ উত্তোলনের মতো এক চাঞ্চল্যকর, অমানবিক ও সংবেদনশীল ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক কিশোর কর্তৃক কবর থেকে অর্ধগলিত লাশ তুলে অবমাননা, কুফরি কর্মকাণ্ডের অপচেষ্টা এবং তা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ন্যক্কারজনক এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রভাবশালী মাতাব্বররা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত কিশোরের নাম সিয়াম হোসেন (১৬)। সে বড় শিবপুর কোতরাপাড়া মৎস্য সমবায় সমিতির সেক্রেটারি শহিদুল ইসলামের ছেলে এবং কাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে সিয়াম হোসেন নিজ এলাকার একটি কবরস্থান থেকে মৃত মানুষের একটি অর্ধগলিত মরদেহ উত্তোলন করে। এরপর মরদেহের অবমাননা করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে ওই কিশোর। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, উত্তোলিত মরদেহের মাথার খুলি দিয়ে কুফরি বা জাদুটোনা জাতীয় কর্মকাণ্ড করার এবং বাকি অংশ অবৈধভাবে বিক্রি বা ব্যবসার উদ্দেশ্য ছিল তার। একপর্যায়ে স্থানীয় জনতার হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ে সে। জনতার মুখোমুখি হলে সে পুরো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এবং অপরাধের কথা বীকার করে।
গ্রাম্য সালিশ ও বিচারের নামে প্রহসন:
পবিত্র ও সংবেদনশীল এই অপরাধের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মুরব্বি ও মাতাব্বর ঘটনার সুষ্ঠু ও আইনি বিচার না করে অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার নামে ধামাচাপা দিয়েছেন। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি শাস্তি ছাড়াই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজ এই প্রহসনের বিচার সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি এলাকাবাসীর:
সমাজপতিদের এই পক্ষপাতদুষ্ট ও টাকার বিনিময়ে মীমাংসার সিদ্ধান্তে ফুসে উঠেছে স্থানীয়রা। তাদের মতে, মরদেহের সঙ্গে এমন পশুবৃত্তসুলভ আচরণ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো অপরাধের যদি সঠিক বিচার না হয়, তবে সমাজে অবক্ষয় আরও বাড়বে। অভিযুক্ত কিশোর ও তার রক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *