স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরে মায়ের কোল থেকে ৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য নবজাতক পুত্রসন্তানকে হত্যা করে উল্টো পুত্রশোকাক্রান্ত মাকে হত্যাকারী সাজিয়ে মামলা ও গ্রেফতারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ৭নং চরবানী পাকুরিয়া ইউনিয়নের ভাবকী গ্রামের খাদেম আলী ও হুরেজা বেগম দম্পতির ছেলে মোঃ হুমায়ুন আহমেদের সাথে জামালপুর পৌর এলাকার কম্পপুর গ্রামের মোঃ মুনতাজ আলী ও মোছাঃ মালেছা বেগম দম্পতির কন্যা শ্রাবন্তী আক্তার (২১) এর সাথে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে গহনা বাবদ ২ হাজার ৬শত টাকা আদায় ও লাখ ৪৭ হাজার ৪শত টাকা বাকী রেখে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর ইসলামী শরা
শরিয়তের শরিয়ত মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
এসময় তার ৩ মেয়ে ও এক ছেলের পরিবারের ৩য় সন্তান শ্রাবন্তীর সুখের কথা বিবেচনা করে পিতা মুনতাজ আলী হুমায়ূনকে নগদ সাড়ে তিনলাখ টাকা, ১টি স্বর্ণের আংটি ও সংসারের যাবতীয় জিনিসপত্র দেয়।
এদিকে বিয়ের পর শ্রাবন্তী জানতে পারে ওর স্বামী হুমায়ূন একজন বেকার, মাদকাসক্ত ও মাদকব্যবসায়ী। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। অপরদিকে শ্রাবন্তীকে যৌতুকের দাবীতে প্রায়শঃই ওর স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুড়ি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। এ বিষয়ে একাধিকবার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে শালীস বৈঠক হলেও স্বভাব পাল্টায়নি শ্রাবন্তীর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। একারণে বেশীরভাগ সময় বাবার বাড়িতেই থাকতো শ্রাবন্তী। এভাবেই অশান্তি আর অভাবের সাথে যুদ্ধ করেই চলছিল হতভাগ্য শ্রাবন্তীর সংসার জীবন। এরই বিয়ের কয়েকমাসের মধ্যে শ্বশুরবাড়িতে থাকাকালীনু গর্ভধারণ করে শ্রাবন্তী। কিন্তু ওর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাচ্চা নষ্ট করে ফেলার জন্য শ্রাবন্তীকে চাপ দেয়। কিন্তু শ্রাবন্তী তাতে রাজী না হওয়ায় দুই পরিবারের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে শ্রাবন্তী নিরাপদে সন্তান প্রসবের জন্য তার বাবার বাড়ি চলে আসে। তারপর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সে গত আট মাস পূর্বে একটা জীবিত পূত্র সন্তানের জন্ম দেয়। এই সন্তান জন্মের পর একবারের জন্যও ওকে দেখতে আসেনি ওর বাবা কিংবা দাদা-দাদি। ওদের তরফ থেকে একসেট জামাও জোটেনি ওই নবজাতকের কপালে। তবুও আক্ষেপ থাকলেও কোন অভিযোগ ছিলনা শ্রাবন্তীর ফুটফুটে ওই ছেলেকে বুকে সব দুঃখ যন্ত্রণা নিরবে হজম করে বাবার বাড়িতে দিনাতিপাত করছিল সে। অথচ গত ১০ জুন ২৬ তারিখে একপ্রকার জোর করেই শ্রাবন্তী ও তার ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যায় হুমায়ূন। হায়রে নিয়তি! এই যাত্রাই যে শ্রাবন্তীর জন্য কাল হবে তা সে ঘুণাক্ষরেও জানতেও পারেনি। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার স্বামীর ঘর থেকে শ্রাবন্তীকে অপহরণ করিয়ে ও ইত্যোবসরে তার কোলের শিশুকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দেয়। এবং এই হত্যার দায় চাপিয়ে শ্রাবন্তীর ওপরই চালায় নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এদিকে জোরপূর্বক নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ওর মা-বাবাকেও একইভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে স্বীকার করতে বাধ্য করে সন্তান হত্যার দায়। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে রাতারাতি করা হয় মিথ্যে মামলা। মেলান্দহ থানার মামলা নং-২৯, তারিখ: ২৮/৬/২০২৬। সুপরিকল্পিতভাবে ভাবে চলতে থাকে একের পর সাজানো নাটক।
এদিকে এ ঘটনায় ফুঁসে ওঠেছে শ্রাবন্তীর বাবার বাড়ি এলাকার শতশত মানুষ। তাদের দাবী অনতিবিলম্বে নির্দোষ শ্রাবন্তীকে মুক্তি দিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষী হুমায়ুনসহ তার পরিবারকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
