মোঃ নাসিরউদ্দিন
সিনিয়র সটাফ রিপোর্টার

রাজশাহীর তানোরে কথিত প্রাণী চিকিৎসক দিপক কুমারের ভুল চিকিৎসায় অস্ট্রেলিয়ান জার্সি জাতের দুটি গরু মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যু শয্যায় তিন লাখ  টাকা দামের আরো একটি গাভী ও একটি বকনা বাছুর। তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মাদারীপুর গ্রামে এঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় শনিবার (৩০মে) দুপুরে মাদারিপুর বাজারে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক মাদারিপুর বাজারের কথিত চিকিৎসক দিপক কুমার ও চৌবাড়িয়া বাজারের দেলোয়ার হোসেন ভিম একে অপরের ওপর দোষ চাপিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য রাখেন। ফলে কোনো সমাধান ছাড়াই সালিশ বৈঠক শেষ হয়েছে। আগামি মঙ্গলবার  আবারো সালিশ বৈঠক বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। 
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন,ভিম ও দিপক দুজনই ভুয়া ডাক্তার। তারা অনুমান নির্ভর হয়ে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা করে কৃষকের পকেট কাটছে। তাদের চিকিৎসা ও ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া উচিৎ। কারণ তারা নিজেরাই ব্যবস্থাপত্র লেখেন আবার নিজেরাই ওষুধ বিক্রি করেন।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,এরা অল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফার আশায় নাম সর্বস্ব কোম্পানির নিম্নমাণের ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে আসছে। দীর্ঘদিন যাবত এসব দোকানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করার দাবি করে আসলেও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিরব ভূমিকা পালন করছে।
জানা গেছে, উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) মাদারিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেকের অস্ট্রেলিয়ান জার্সি জাতের ৪টি গরু রয়েছে। একটি গরু অসুস্থ হলে তিনি স্থানীয় গ্রাম্য প্রাণী চিকিৎসক জীবন কুমারকে খবর দেন।কিন্ত্ত জীবন কুমার না থাকায় তিনি তার ভাতিজা দিপক কুমারকে পাঠান। দিপক কুমার একটি গরুর চিকিৎসা দিতে গিয়ে ৪টি গরুকে খুঁরা রোগের চিকিৎসা দেন। প্রতিটি গরুকে ৪টি করে ইঞ্জেকশন পুশ করেন। এর পরই দুটি গরু মারা যায় ও দুটি গরু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানান আব্দুল খালেক। খালেক বলেন,মারা যাওয়া দুটি গরুর মধ্যে একটি গরুর দাম (অস্ট্রেলিয়া জার্সি) এক লাখ ১৫  হাজার ও অপরটি এক লাখ ১১ হাজার টাকা। আব্দুল খালেক বলেন, গত শনিবার কামারগাঁ ইউপি বিএনপির নেতা খলিলুর রহমান খলিলের চেম্বারে সালিশ বৈঠক বসেছিল।কিন্ত্ত তারা সময় চেয়েছেন আগামি মঙ্গলবার আবারো সালিশ বৈঠক বসবে। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ না পেলে তিনি থানায় মামলা করবেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জীবন কুমার বলেন,তিনি ছিলেন না তার ভাতিজা দিপক কুমার গরুর চিকিৎসা করেছেন।এবিষয়ে জানতে চাইলে দিপক কুমার বলেন,তিনি চিকিৎসা দেবার পর গরু ভালোই ছিলো।কিন্ত্ত তাকে না জানিয়ে তারা চৌবাড়িয়া হাটের দেলোয়ার হোসেন ভিম ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করিয়েছেন।তিনি বলেন, চিকিৎসা করাতে গিয়ে তো মানুষও মারা যায় তাই বলে কি ডাক্তারের দোষ।তিনি বলেন,একটি গরু তারা জবাই করে বিক্রি করেছে আর একটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। গরুর পোস্টমর্টেম করে ভুল চিকিৎসার প্রমাণ হলে তিনি দায় শিকার করবেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন ভিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তিনি গরুর কোনো চিকিৎসা করেননি,তাকে ফাঁসানোর জন্য তার নাম করা হচ্ছে।
 এবিষয়ে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ওয়াজেদ আলী মিয়া বলেন,তিনি এবিষয়ে অবগত নন।তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *