মোরশেদ মিয়া
প্রতিনিধি গাইবান্ধা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
যা জনজীবন ও কৃষি কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ডিজেল ও অকটেনের অভাবে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক ও কৃষক পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না।
এ সংকটের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। সেচ মৌসুমে জমিতে পানি দেওয়ার জন্য ডিজেলচালিত পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু তেলের অভাবে অনেক ক্ষেতেই সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, ফলে ফসল উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। কৃষকদের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে চলতি মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সংকট পুরোপুরি প্রাকৃতিক বা সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয়; বরং এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজির ফল। তারা বাজার থেকে তেল সংগ্রহ করে গোপনে মজুদ করছে এবং পরে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে। এতে করে পাম্পগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
এদিকে ফিলিং স্টেশন মালিকদের অনেকেই বলছেন, তারা পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না। আবার সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, কিছু পাম্প গোপনে তেল বিক্রি করছে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
সর্বোপরি, গোবিন্দগঞ্জের এই জ্বালানি সংকট শুধু একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি কৃষি উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *