স্টাফ রিপোর্টার
ময়মনসিংহে চড়া সুদের দ্বিগুণ টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তার বাড়ী-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি দাদন ব্যবসায়ীরা। উল্টো তার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের ২কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলে
দাদন ব্যবসায়ীরা উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারও ষড়যন্ত্র করে তাঁর সুনাম ও সুখ্যাতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা নাহিদ হাসান। তিনি অভিযোগ করেন আমার কাছে সুদের দিগুণ টাকা নিয়ে দাদন ব্যবসায়ীরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ভাগবাটোয়ারা দিবেন এমন চুক্তিতে দাদন ব্যবসায়ীদের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের সহযোগী হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

পরিষদের সাবেক একজন সদস্য জানান,ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার এর শুরু থেকেই একজন উদ্যোক্তা হিসেবে বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করে আসছেন। তিনি জানান- নাহিদ হাসান তার মেধা, সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিলে-তিলে ইউপি ডিজিটাল সেন্টারকে জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেছেন। একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যক্রম পরিধি বিস্তার করে সফলতার শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তার কাছে এসে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা হয়রানিমুক্ত পরিবেশে জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দিয়েছেন।

এ সময় অভিযোগ করে বলেন, নাহিদ হাসানের অভাবনীয় সফলতায় সমাজের কিছু মানুষ ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা বলছেন- ইউনিয়ন পরিষদের ২কোটি টাকা নিয়ে উদ্যোক্তা উধাও হয়েছেন উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুললেও স্থানীয়দের ভাষ্য মতে-নাহিদ স্থানীয় কয়েকজন দাদন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে সুদে টাকা ধারকর্জ করেন, পরবর্তীতে তারা সেই টাকার সুদে আসনে দিগুণ দাবী করায় নাহিদ অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা নাহিদ কে হুমকি-ধমকিসহ নাহিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শুরু করে,। কয়েকদিন আগে নাহিদ হাসানের নতুন বাড়ীতেও হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করে সব কিছু নিয়ে গেছে। নাহিদ হাসান কে প্রানে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখালে নাহিদ হাসান ওদের ভয়ে তার নিরাপত্তার জন্য এলাকা ছেড়েছেন। অথচ দাদন ব্যবসায়ীদের সাথে সাথে ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান হাত মিলিয়ে প্রচার করেছে ইউনিয়ন পরিষদ এর দুই কোটি টাকা নিয়ে নাহিদ হাসান উদাও হয়েছে,অথচ তার স্ত্রী-সন্তান মা বাবাসহ সকলেই এলাকায় আছেন। নাহিদের স্ত্রী পরিষদের নারী উদ্যোক্তা তাকেও পরিষদে বসতে দিচ্ছেন না প্যানেল চেয়ারম্যান। মন্তব্য চলছে দুই কোটি টাকা নিয়ে উধাও হলে স্ব-পরিবারে মিলে উধাও হয়ে গেলেও তারা সুন্দর ভাবে চলতে পারতো,নাহিদ একা কেনো গেলো? এমন প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে- সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়ন বা তার আশেপাশের ইউনিয়নের যতগুলো সুদের ব্যবসায়ী আছে তার মধ্যে প্রথম শ্রেণীর সুদ ব্যবসায়ী হচ্ছেন মুক্তার। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় অষ্টধার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছিলেন। অসাধু টাকার বিনিময়ে পঞ্চম শ্রেণী পাস হয়েও অষ্টধার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের
সভাপতি বনে যান। বিদ্যালয়ের সভাপতি থাকাকালীন সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য সহ ভুয়া বাউচার দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েক কোটি টাকা টাকা। এমনকি নিজের ছোট ভাই কাওছার কে করণিক পোস্টে চাকরি দিয়ে ছোট ভাইকে বাধ্য করে জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নিয়েছেন চৌদ্দ লাখ টাকা। এইভাবে জিরো থেকে উঠে আসা মুক্তার বর্তমানে কয়েকটি বিল্ডিং সহ শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। উচ্চ সুদে মানুষের রক্ত চুষে নিয়ে পিয়ারপুরের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী আমানত সাহেবসহ একাধিক ব্যক্তিকে অনেককে পথে বসিয়ে দিয়েছেন মুক্তার। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ইন্ডিকেট করে চড়া দামে সুদ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন তাদের সহায় সম্পত্তি। অলরেডি দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রশাসনের নজরে আছেন তিনি।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *