উবায়দুল্লাহ রুমি
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক বিধবা নারীর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাঁর দুই শিক্ষার্থী মেয়েকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভাইদগাঁও গ্রামে।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের মা নাজমা খাতুন বাদী হয়ে একই গ্রামের আবুল কালাম মান্তু (৫৫) ও তাঁর দুই ছেলে নাঈম ইসলাম (২৬) এবং সিয়াম মিয়া (২৪)-এর বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাজমা খাতুনের বাড়িতে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় নাজমা খাতুন বাড়িতে না থাকায় তাঁর দুই মেয়ে—জুমী আক্তার মীম (১৮) ও তৃষা মুনা (১৩)—এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আবুল কালাম মান্তুর নির্দেশে তাঁর বড় ছেলে নাঈম ইসলাম রাম-দা দিয়ে জুমী আক্তার মীমের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। পরে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এ সময় ছোট বোন তৃষা মুনা এগিয়ে এলে সিয়াম মিয়া তাকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মেয়েদের শ্লীলতাহানির চেষ্টাও চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মেয়েদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত শিক্ষার্থীদের মা নাজমা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ এপ্রিল ২০২৫ সালে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। আমাকে বাড়িতে না পেয়ে আমার ভাসুরের ছেলেরা তার হুকুমে আমার দুই শিক্ষার্থী মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই তারা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। আমি আমার এতিম মেয়েদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মোবাইল বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আজম জানান, “জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাপ্ত অভিযোগ আদালতে প্রসিকিউশনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আর মারামারির বিষয়ে দ্বিতীয় অভিযোগের ক্ষেত্রেও আদালতে প্রসিকিউশন পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *