নিজস্ব সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ফুলপুরের বওলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাতেন খান তার মামাত ভাই সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের প্রভাব খাটিয়ে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানের যতগুলো নিয়োগ দিয়েছেন এর মধ্যে পিয়ন, নাইট গার্ড, লাইব্রেরিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারি, সহকারী প্রধান শিক্ষক শালিয়া হাইস্কুল এবং অধ্যক্ষ কাইছাপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা, প্রত্যেকের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৭ লক্ষ টাকা থেকে ৩২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। যা একান্তই নিজে গ্রহণ করেন।

তার রাজনৈতিক ক্ষমতা বলে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে তার পারিবারিক কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করেছেন। একক ক্ষমতা বলে নিজের শ্যালিকা, ভাতিজা, ভাতিজার স্ত্রী সহ কাছের আত্মীয়-স্বজনকে চাকরি দিয়েছেন। যে সকল প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে ছিলেন সেই সকল প্রতিষ্ঠানের সরকারি সম্পত্তি রাজনৈতিক ক্ষমতা বলে নিজ এবং নিজের পরিবারের প্রয়োজনে বিক্রি করে আত্মসাৎ করেন।একই পদের বিনিময়ে একের অধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে চাকুরী প্রত্যাশীরা চাকুরী না পেয়ে টাকা চাইতে গেলে সে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে টাকা না দিয়ে তাদেরকে থামিয়ে দেয়। এবং ভুক্তভোগীরা টাকা আদায়ের চেষ্টা করলে রাজনৈতিক প্রভাবে তাদেরকে দমিয়ে রাখে। ফুলপুর থানার বালিয়া ইউনিয়নের উপদেষ্টামন্ডলির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল বাতেন খান। নিজের ক্ষমতা বলে আব্দুল বাতেন খানের স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমকে কে শালিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং নিজে সভাপতি পদ নেন।
ময়মনসিংহ শহরে চার শিক্ষকের ফ্ল্যাট কেনাবেচা কেলেঙ্কারি এবং জোরপূর্বক জমি দখলকারির তিনি অন্যতম একজন। ময়মনসিংহের ইব্রাহিম টাওয়ার,ফ্রেন্ডস টাওয়ার,শ্যামলী টাওয়ার,ইউনিটি টাওয়ার ছাড়াও আরো কয়েকটি ভবনেও ফ্ল্যাট রয়েছে তার।
একজন শিক্ষক হয়েও এতো টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করে কোটি কোটি টাকার সম্পদ তৈরি করেছেন। অথচ এখনো পর্যন্ত তার এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *