মোঃ ইমরুল আহসান

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, সবুজে ঘেরা, পাখির কলতানে মুখরিত এই অঙ্গনে তোমাদেরকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানাই । তিনি বলেন, তোমরা যখন বেড়িয়ে যাবে যেনো আমরা বলতে পারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমাদের অবস্থানের জন্য আমরা ধন্য। তিনি আরও বলেন, তোমরা যখন ভর্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলে তখন তোমার পিতা-মাতা তোমাদেরকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সব উদ্বিগ্নতা কাটিয়ে যখন তোমরা ভর্তি হলে তোমাদের পিতামাতা তোমাদেরকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন। আজ থেকে তোমাদের কমিটমেন্ট হোক, এই স্বপ্নকে তোমরা ভাঙ্গবে না। পিতামাতা এবং শিক্ষকদেরকে অতিক্রম করে তোমরা এমন জায়গায় যাও যেনো আমরা দেখতে পাই তোমরা উজ্জ্বল তারা হয়ে জ্বলছো। দেশ মাটি ও মানবতার সেবার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদেরকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান ভাইস চ্যান্সেলর।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলে। সোমবার (২৯ মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ-এর ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. কিউ. এম. মাহবুব অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ওরিয়েন্টেশন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মাহবুবা নাসরীন।

ছাত্র-উপদেষ্টা ও ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম আয়োজন কমিটি ২০২৩-এর আহŸায়ক প্রফেসর ড. শেলীনা নাসরীনের সভাপতিত্বে এবং ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় এ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ. এম. আলী হাসান, ডিনবৃন্দের পক্ষে প্রফেসর ড. এইচ. এন. এম. এরশাদ উল্লাহ, বিভাগীয় সভাপতিবৃন্দের পক্ষে প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মা, আইআইইআর-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান, পরিবহণ প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে গঠিত অভিযোগ কমিটির আহŸায়ক প্রফেসর ড. রেবা মণ্ডল, গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. আব্দুল লতিফ, পরীক্ষা-নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ এবং প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সিরাজুল ইসলাম।

নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষে গণিত বিভাগের লুৎফর রহমান, বাংলা বিভাগের খন্দকার ফারজানা, হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের জয়া রাণী বসাক ও আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আ ন ম উসামা বিন হাশিম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ।

অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান নবীনদের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এসো, আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদেরকে পরিবর্তন করি। খারাপ সবকিছুকে বর্জন এবং ভালোকে গ্রহণ করি। তিনি বলেন, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেনো তোমাদের মতো হতে চায়, এমন আদর্শ মানুষ হিসেবে তোমরা নিজেদেরকে গড়ে তোলো।

ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তাদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগিয়ে যোগ্য গ্রাজুয়েট এবং সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখবে, এই প্রত্যাশা রাখছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. কিউ. এম. মাহবুব নবীন শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানান।

ওরিয়েন্টেশন বক্তা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মাহবুবা নাসরীন বলেন, শিক্ষার জন্য দরকার উপযুক্ত পরিবেশ ও উপযুক্ত শিক্ষক। এ দুটোই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু প্রথম হওয়া নয়, বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে তোমাদেরকে মেধাবী, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হতে হবে। মনুষ্যত্বের শিক্ষা সব থেকে চরম শিক্ষা। শিক্ষার্থীদেরকে সহিংস না হতে, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং নিয়মিত বই পড়ার পরামর্শ দেন তিনি ।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আলোচনাসভার পূর্বে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আসন গ্রহণের পর অতিথিদের ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করা হয়। প্রত্যেক ইউনিটের সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ২জন করে মোট ৮জন শিক্ষার্থীকে ফুল ও স্যুভেনির এবং পরে নবীনদের সবাইকে রজনীগন্ধার স্টিক দিয়ে বরণ করা হয। সবশেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *