রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার শাহমখদুম কলেজের সামনে থেকে আব্দুল্লাহ আল নোমান ওরফে তামিম নামে এক কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় তিন অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে মতিহার থানা পুলিশ। এসময় একটি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো- জহুরুল হোসেন রেন্টু (৩৫), ইসমাইল হোসেন (৩০) ও রাসেল (৩২)। জহুরুল রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার মেহেরচন্ডী কড়ইতলার মৃত খয়রাত আলীর ছেলে, ইসমাইল রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার মাছপাড়ার সারোয়ার হোসেনের ছেলে এবং রাসেল মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার ভদ্রা জামালপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার পুনট পূর্বপাড়ার আব্দুল্লাহ আল নোমান ওরফে তামিম বঙ্গবন্ধু কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। মঙ্গলবার ( ২১ মে) বিকেল পৌনে ৩ টায় তামিম তার বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে তালাইমারী থেকে অটোরিকশায় সাহেববাজার যাচ্ছিছেলন । পথিমধ্যে মতিহার থানার তালাইমারী এলাকা হতে আসামি জহুরুলসহ আরও দুইজন ইসমাইল হোসেনের অটোরিকশা নিয়ে তাদের রিকশার পিছু নেয়। বিকেল ৩ টায় বোয়ালিয়া থানার শাহমখদুম কলেজের সামনে পৌঁছালে তারা তামিমকে জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে অপহরণ করে রানীনগর এলাকার গলি রাস্তা দিয়ে তালাইমারী তিন রাস্তার মোড়ে নিয়ে যায়। সেখানে অপহরণকারীরা তামিমের বাবার নিকট ফোনে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এদিকে, তামিমের সঙ্গে থাকা বান্ধবী পুলিশের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে। সংবাদ পেয়ে মতিহার থানা পুলিশের একটি টিম পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অপহরণকারীদের ধাওয়া করে। পরে মতিহার থানার রুয়েট ফ্লাইওভারের কাছ থেকে আসামি জহুরুল ইসলাম রেন্টু ও রিকশা চালক ইসমাইলকে গ্রেফতার করে এবং তামিমকে উদ্ধার করে।
গ্রেফতারের সময় দুই অপহরণকারী দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় অপহরণকারীদের অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি জহুরুল ইসলাম রেন্টুর বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজি ,সরকারি কর্মচারী হিসেবে প্রতারণা করার অপরাধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ৮টি মামলা রয়েছে এবং এছাড়াও পলাতক অপর দুই অপহরণকারীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় নগর পুলিশের মুখপাত্র মো. জামিরুল ইসলাম।
মো. জামিরুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মতিহার থানায় মামলা করা করা হয়। আসামিদের দেওয়া তথ্যমতে অপর আসামি রাসেলকে ওই দিন রাত ১১ টায় তার বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আসামি রাসেলের বিরুদ্ধে নগরীর চন্দ্রিমা ও বোয়ালিয়া থানায় ২টি মাদক মামলা রয়েছে। পরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
