স্থানীয় প্রতিনিধি
এজাহার পর্যালোচনা এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, বাদী মোঃ সোহেল(২৪) এবং বিবাদীরা পরস্পর আত্নীয়-স্বজন। তাদের মধ্যে জমি-জমার বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসতেছিল। ঘটনার তারিখ ইং ১৬/০৪/২০২৪ খ্রি. তারিখ সকাল অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকার সময় বাদীর বাড়ীর সীমানার মধ্যে একটি শেওড়া গাছের ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে বাদীর পিতা নিহত আঃ গণি(৫৬) এর সাথে বিবাদীদের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির ঘটনা শুনিয়া বাদীর চাচা মোসলেম, বাদীর মাতা মমতা এগিয়ে আসেন। এ সময় বিবাদীরা তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র দা, লাঠি এবং লোহার রড ইত্যাদি নিয়ে বাদীর জমিতে প্রবেশ করে তার পিতা আঃ গণি‘কে এলোপাথারী মারপিঠ শুরু করে। মারপিঠের কারনে আঃ গণি গুরুতর হাড়ভাঙ্গা রক্তাক্ত জখমপ্রাপ্ত হলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আঃ গণি‘কে বাঁচানোর জন্য বাদীর চাচা মোসলেম এবং মাতা মমতা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা তাদেরকেও এলোপাথারী মারপিঠ করে গুরুতর হাড়ভাঙ্গা রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার আত্ন-চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাদীর পিতা আঃ গণি, চাচা মোসলেম এবং মাতা মমতা‘কে বিবাদীদের কবল থেকে রক্ষা করেন। তাৎক্ষনিকভাবে, বাদীসহ তাহার পরিবারের লোকজন বাদীর পিতা আঃ গণি, চাচা মোসলেম এবং মমতা‘কে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশংকা জনক দেখে ময়ময়সিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে, বাদী তার পিতা আঃ গণি, চাচা মোসলেম এবং মাতা মমতা‘কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে গত ইং ১৭/০৪/২০২৪খ্রি. তারিখ ভোর অনুমান ০৭.৩৫ ঘটিকার সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আঃ গণি মৃত্যুবরণ করেন। আঃ গণি(৫৬) হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মোঃ সোহেল (২৪), পিতা- নিহত আঃ গনি(৫৬), সাং-কুমুরিয়ারচর, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা- ময়মনসিংহ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১৮, তারিখ-১৮/০৪/২৪, ধারা-১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩০২/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড ১৮৬০। ঘটনার পর থেকে আসামীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আত্নগোপনে চলে যায়।
এরই প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধিনায়ক র্যাব -১৪, ময়মনসিংহ মহোদয়ের নির্দেশক্রমে র্যাব-১৪, সদর ব্যাটালিয়নের অপারেশনস্ অফিসার অতিঃ পুলিশ সুপার জুলফিকার আলী এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ইং ২৯/০৪/২০২৪ খ্রি. তারিখ ভোর অনুমান ০৪.০০ ঘটিকায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানাধীন জাটিয়া ইউনিয়নের তুরন্ধর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে কৃষক আঃ গণি হত্যা মামলার মূলহোতা মোঃ হবি (৪৫), পিতা- মৃত দেওয়ান, সাং-কুমুরিয়ারচর, থানা-ঈশ্বরগঞ্জ, জেলা- ময়মনসিংহ‘কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ধৃত আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার নিমিত্তে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
