সামদানি হোসেন বাপ্পি

ভিকটিম গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন কাওরাইদ ইউনিয়নের সিপির মোড় এলাকায় তার শ্বশুর বাড়ীতে বসবাস করে। গত ২২-০২-২০২৪খ্রি. তারিখ সন্ধা অনুমান ০৭.৩০ ঘটিকার সময় ভিকটিম তার ননাশের জামাই মোঃ জমির উদ্দিনের সাথে ভিকটিমের নিজ বাড়ীর উত্তর পাশে মসজিদ মাঠে বাৎসরিক ওয়াজ মাহফিল শুনতে যায়। ঐদিন রাত অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকার সময় ওয়াজ মাহফিল শোনা শেষে ভিকটিম তার ননাশের জামাই মোঃ জমির উদ্দিনের সাথে বাড়ী ফেরার পথে অজ্ঞাতনামা ০৪ জন লোক ভিকটিমের পিছু নেয়। ভিকটিম এবং তার ননাশের জামাইসহ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন শিমুলতলা সাকিনস্থ জনৈক সুজন-সুমনের বাড়ীর সামনে কাঁচা রাস্তার উপর পৌছামাত্র অজ্ঞাতনামা ০৪ জন লোক ভিকটিমের ননাশের জামাই মোঃ জমির উদ্দিনকে আটক করে রাখে এবং ভিকটিমকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাইয়া ভিকটিমের মুখ চাপিয়া ধরে সেখান থেকে ২০০ গজ পূর্ব দিকে জনৈক শরাফত আলীর টেক নামক গজারী বনের ভিতর নিয়ে গিয়ে ইং ২২-০২-২০২৪খ্রি. তারিখ রাত অনুমান ০৮.৪০ ঘটিকা থেকে রাত ১০.০০ ঘটিকা পর্যন্ত আসামিরা ভিকটিমকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর আসামিরা ভিকটিমকে জঙ্গলের ভিতর রাখিয়া চলে যায়। পরবর্তীতে, ভিকটিম বাড়ী ফেরার পর তার পরিবারের লোকজনের সাথে আলোচনা করে ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ০৪ জন আসামির বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং-৪৬, তারিখঃ ২৪/০২/২০২৪খ্রি., ধারাঃ ৯(৩)/৩০, ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, (সংশোধনী ২০২০)। ভিকটিমকে গণধর্ষণের ঘটনায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানা এলাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার পর পরেই র‌্যাবের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনার বিষয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করেন।

এরই প্রেক্ষিতে, বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অধিনায়ক র‍্যাব-১৪, ময়মনসিংহ এর নির্দেশক্রমে র‍্যাব-১৪, সদর ব্যাটালিয়নের অপারেশনস্ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুলফিকার আলী এর নেতৃত্বে এবং র‍্যাব ১,সিপিএসসি, গাজীপুর এর সহায়তায় একটি যৌথাভিযানিক দল ইং ৩১/০৩/২০২৪ ইং তারিখ রাত অনুমান ০৩.৫৫ ঘটিকায় ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানাধীন লংগাইর গোলাবাড়ী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি ১। মোঃ রাসেল মিয়া (৩২), পিতা-মৃত শরাফত আলী, সাং-শিমুলতলা, থানা-শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুর‘কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ধৃত আসামি‘কে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *