আবুজার গিফারী
কেশবপুর (যশোর)
কেশবপুর উপজেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। প্রচণ্ড ঠান্ডায় জনজীবন যখন কার্যত স্থবির, তখন সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এমন হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেই মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন।
একজন দায়িত্বশীল নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হয়েও তিনি মানবকল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রেখেছেন। গভীর রাতে নিজ উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গরিব, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করে চলেছেন তিনি। এতে করে উপজেলাবাসীর কাছে তিনি অর্জন করেছেন ব্যাপক আস্থা, ভালোবাসা ও সম্মান।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক যুগ পর এ বছর কেশবপুরে এমন প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনমজুর, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। তাদের এই দুর্দশার কথা বিবেচনা করে ইউএনও রেকসোনা খাতুন সোমবার ও মঙ্গলবার (৬ ও ৭ জানুয়ারি ২০২৬) টানা দুই দিন গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিজে উপস্থিত থেকে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন।
জানা গেছে, এই দুই দিনে তিনি মোট ১ হাজার ৫১৭ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। শুধু বিতরণই নয়, অনেক ক্ষেত্রে শীতার্তদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রয়োজনের কথাও শোনেন। প্রশাসনের এমন মানবিক উপস্থিতিতে অনেক অসহায় মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শীতবস্ত্র পাওয়া একাধিক পরিবার জানান,
আমাদের ইউএনও রেকসোনা খাতুন স্যার একের পর এক মানবিক দৃষ্টান্ত রেখে চলেছেন। এমন শীতে রাত জেগে আমাদের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই বিরল ঘটনা। আমরা তাঁর সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
এলাকার সুধী সমাজ ও জনপ্রতিনিধিরাও ইউএনওর এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন,
এই শীতে এমন মানবতাবাদী ইউএনও-ই দরকার। প্রশাসনের দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক দায়বদ্ধতার এমন উদাহরণ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও নিষ্ঠার মাধ্যমে ইউএনও রেকসোনা খাতুন কেশবপুর উপজেলায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয়। শীতার্ত মানুষের মুখে মুখে এখন একটাই কথা—এমন মানবিক ইউএনও থাকলে সাধারণ মানুষ কখনো একা নয়।’
