ছামিউল হক রাসু
১৭ ফেরুয়ারী ২০২৪ শনিবার সকাল ১০.৩০ মিঃ কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সামনে, “শ্যমল হেমব্রোম, মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু সহ ভুমি উদ্ধারের শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না” স্লোগানে মহিমাগঞ্জ চিনিকলের অব্যবহ্ত জমি চুক্তি অনুযায়ী মালিকদের ফেরত দেয়ার পরিবর্তে ইপিজেড কতৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্তের প্রতিবাদ মানববন্ধন করেন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভুমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি। সংগঠনের অর্থ সম্পাদক গণেশ মূর্মুর সভাপতিত্বে মানববন্ধন শুরু হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আদিবাসী গবেষণা পর্ষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু গোবিন্দগঞ্জের বাগদা ফার্মের আদিবাসী নয় সমতলের সকল আদিবাসী ভুমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের বাপদাদা পৈত্রিক সম্পাতি দখল মুক্ত করে প্রকৃত মালিকদের ফেরত দিতে হবে।
সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ভুমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান মামলা সম্পর্কে বলেন, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর উচ্ছেদ করতে গেলে পুলিশ, চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে মঙ্গল মার্ডি, রমেশ টুডু ও শ্যামল হেমব্রম মারা যান। এসব ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষে স্বপন মুরমু বাদী হয়ে ওই বছরের ১৬ নভেম্বর ৬০০ জনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করে মামলা করেন। পরে ২৬ নভেম্বর থোমাস হেমব্রম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ এবং ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করে আরেকটি মামলা করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও গাইবান্ধা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বাবুর বরাত দিয়ে জাফরুল বলেন, ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাইবান্ধা শাখার তদন্তকারী কর্মকর্তা এই হত্যা মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্রে ১১ আসামির নাম বাদ দেন।
পরে একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর মামলার বাদী থোমাস হেমব্রম ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর অধিকতর তদন্ত করতে মামলাটি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।
পরে সিআইডি ২০২০ সালের ২ নভেম্বর আদালতে একই ধরনের অভিযোগপত্র দাখিল করে; যা পরে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি বাদী থোমাস হেমব্রম পুনরায় নারাজি দেন। এই নারাজির ওপর বেশ কয়েক দফা শুনানি শেষে আগামী বছরের ১২ মার্চ আদেশের দিন ধার্য করেন আদালত।
বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির বলেন, আমাদের খেটে-খাওয়া সাধরণ মানুষের সাথে আর কোন বেইমানি চলবে না, তাদের বাপদাদার পৈত্রিক সম্পত্তি তাদের ফেরত দিতে হবে।
রাষ্ট্র সংষ্কার আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক ছামিউল আলম রাসু বলেন, আমরা ইপিজেড উন্নয়ন বিরোধী নয়, আগে আদিবাসী বাঙালীর পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত দিন তারপর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিয়ে তাদের থেকে জমি নিয়ে ইপিজেড করুন। তিনজন শহীদ হয়েছে দ্রুত হত্যার বিচার করুন তাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন।
আদিবাসী নেতা মায়রা হেমব্রোম বলেন আমাদের তিনজন শহীদ হয়েছে প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিবো তবুও অধিকার আদায় করে ছাড়বো।
বক্তারা আরো বলেন, কোনো এলাকার উন্নয়নে ইপিজেড স্থাপন করা মানুষের জন্য অবশ্যই সুখবর। কিন্তু সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের আদিবাসী ও বাঙালিদের বাপ-দাদার জমিতে সেখানকার ওয়ারিশগণের সঙ্গে কোনো ধরনের স্বাধীন, পূর্বাবহিত সম্মতি ছাড়াই ইপিজেড স্থাপনের ঘোষণা আদিবাসী-বাঙালি জনগণকে হতাশ করেছে। ২০১৬ সালের ৬ই নভেম্বরের ঘটনার পর থেকে নির্যাতনের শিকার আদিবাসী সাঁওতালরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।
আরো বক্তব্য রাখেন জিমন, বিমল বেশরা, জামিন হেমব্রোম প্রমুখ।
