সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহের কিংবদন্তি রাজনীতিক সাবেক ধর্মমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান (৮১) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (২৭ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরীর ধোপাখোলা নেক্সাস কার্ডিয়াক হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
প্রবীণ সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ১৯৪২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ সদরের আকুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আবদুর রেজ্জাক এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা খাতুন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ঢালু যুব শিবিরের ইনচার্জ ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ পাক-হানাদার মুক্ত হওয়ার দিনে শহরের সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে একুশে পদক পান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম এ নেতা।
সাবেক ধর্মমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও সব শ্রেণিপেশার মানুষ হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছিলেন। এতে সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। ২৮ আগস্ট ২০২৩ তারিখ বাদ আছর ময়মনসিংহ টাউন হল মসজিদ প্রাঙ্গনে এই মহাত্মনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা, যারা ছিলেন ময়মনসিংহের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সহযোদ্ধা, এসেছিলেন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা, পিপিএম ও জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাফিজার রহমান সহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং অগণিত সাধারণ মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে জানাজা নামাজে উপস্থিত হন।
ময়মনসিংহের মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। তিনি ২০১৪ সালে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ সদর আসন থেকে ১৯৮৬ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের সংসদ সদস্য হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অকৃত্রিম অবদানের জন্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ‘মুজিব দর্শন বাস্তবায়ন পরিষদ’ কর্তৃক ২০০০ সালে ‘বঙ্গবন্ধু পদক’ লাভ করেন।
