স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনা
নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের ৫০ নং আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সময়মত স্কুলের কার্যক্রম না চালানো এবং বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন সহকারী শিক্ষক রয়েছে। শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় একশত চল্লিশ জনের মতো। আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের খেয়ালখুশি মতো বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করেন এবং এতে করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা হতে বঞ্চিত হচ্ছে এমনটাই দাবি এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত রয়েছেন, সহকারী শিক্ষক মো. শাহিনূর মীরকে অফিস রুমে বসে থাকতে দেখা যায় সাথেই বসা ছিলেন হৃদয় নামের আরেক সহকারী শিক্ষক। বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ খোলা থাকলেও ক্লাসে ছাত্রছাত্রীর তেমন উপস্থিতি ছিলো না। বাকী কক্ষগুলো ছিলো তালাবদ্ধ। অফিস-রুমের জানালাগুলোও ছিলো বন্ধ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত কেন এ বিষয়ে সহকারি শিক্ষক মো. শাহীনূর জানান, তিনি সঠিক কোন কারণ জানেন না এবং মোহনগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসে হয়তো কোন কাজ আছে তাই আসতে পারেননি বলে ও জানান তিনি। শাহীনূর তার নিজের বিষয়ে বলেন, বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকায় এবং যাতায়াতের যানবাহনের জন্য মাঝে মধ্যে আসতে দেরি হয়ে যায় এবং অনুপস্থিতির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
স্থানীয়রা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শওকত আলী প্রতি মাসেই সারামাসে মাত্র ২/৩ দিন স্কুলে আসেন। সহকারি শিক্ষকরাও প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। তাহলে সেদিন স্কুল বন্ধ থাকে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে এলাকাবাসী জানান, শিবু চন্দ্র পাল নামের একজন প্রক্সি শিক্ষক রয়েছেন তিনিই বিদ্যালয়টি খোলা থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাদান করে স্কুল তালাবদ্ধ করে ফিরে যান।
এলাকাবাসী আরও জানান, ২টা আড়াইটার মধ্যেই বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যায়। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রের সাথে কথা বললে তারা বলেন বিদ্যালয়টি বেলা দেড়টা দুইটা বা আড়াইটার মধ্যেই ছুটি হয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, এর আগেও এ বিষয়ে রিপোর্ট হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শওকত আলী বহাল তবিয়তেই আছেন। ছেলেমেয়েরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেন।
প্রক্সি শিক্ষক শিবু চন্দ্র পাল কে, এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করছেন বলে জানান, তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসে মাত্র কয়েকদিন আসেন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শওকত আলী নিয়মিত বিদ্যালয়ে না যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মাঝে মধ্যে নানান কারণে বিদ্যালয়ে যেতে পারি না। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না। তবে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের চাবি সহকারী শিক্ষকের কাছেও থাকে।
এ ব্যাপারে জানতে মোহনগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
