স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এডহক কমিটির সভাপতি পদের তালিকায় বির্তকিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দুই নেতার নাম জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করেছেন প্রধান শিক্ষক। এমন তথ্য প্রকাশ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে,গত জানুয়ারী মাসে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্যে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবকগণ, এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ সবাই মিলে সর্বসম্মতিক্রমে ‘সভাপতি’ পদে যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি হিসাবে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহাম্মদ এককভাবে প্রস্তাব করেন।পরে গত ৭ আগষ্ট -২০২৫ তারিখে মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা (এডহক) কমিটির সভাপতি পদের জন্য তিনজনের নাম সুপারিশ জেলা প্রশাসকের কাছে সুপরিশ করেন। যেখানে মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহাম্মদকে ৩নম্বরে প্রস্তাব করা হয়। উক্ত সুপারিশ পত্রটি প্রকাশিত হওয়ার পর এই নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

ওই তালিকায় থাকা ১ নম্বরে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মোহনগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এডভোকেট লতিফুর রহমান রতনের জুনিয়র ও সহযোগী আইনজীবি শাহরিয়া করিম। যিনি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর ও সাবেক সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানেরও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসাবেও সে পরিচিত। বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের সময় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মী বিভিন্ন সময়ে জেল হাজতে গেলেও তাদেরকে তিনি কখনও কোন আইনী সহায়তা দেননি। বিগত ছাত্র জনতার আন্দোলনে যিনি আন্দোলনকে প্রতিহত করতে সোচ্চার ছিলেন,ছাত্র জনতার উপর হামলা চালিয়েছেন এমন ব্যক্তিকে বিদ্যালয় কমিটিতে সভাপতি পদে প্রস্তাব করে প্রধান শিক্ষক জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কলঙ্কিত করেছেন এমন দাবীও উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, গত জানুয়ারী মাসে বিদ্যালয়েল কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্যে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবকগণ, এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ মিলে সর্বসম্মতিক্রমে ‘সভাপতি’ পদে আমার নাম এককভাবে প্রস্তাব করেন। কিন্তু আওয়ামীলীগপন্থি প্রধান শিক্ষক পরবর্তীতে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার নাম তিন (৩) নম্বরে প্রস্তাব করে এবং আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ শাহারিয়া করিম এক নম্বর ও মোঃ দিদারুল ইসলাম খান পাঠানের নাম দুই নম্বরে প্রস্তাব করেন। মোঃ শাহরিয়া করিম উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মোহনগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এডভোকেট লতিফুর রহমান রতনের জুনিয়র ও সহযোগী আইনজীবি।

বিগত আওয়ামী দুঃশাসনের সময় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মী যারা বিভিন্ন সময়ে জেলে গিয়েছেন তাদেরকে তিনি কখনও কোন আইনী সহায়তা দেননি। আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানেরও ঘনিষ্ঠ সহচর হিসাবেও সে পরিচিত। বর্তমানে কিছু বিএনপি নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে আছে। অন্যদিকে দিদারুল ইসলাম খান পাঠান বাবু ও তার পিতা নজরুল ইসলাম খান পাঠান খোকন চিহ্নিত আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক পলাতক এমপি সাজ্জাদুল হাসানের আস্থাভাজন। তাদের আওয়ামীলীগের বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমের ছবি এখনও সোস্যাল মিডিয়ায় লক্ষ্য করা যায়। সে ছাত্র জীবনে আনন্দমোহন কলেজে ছাত্রলীগ সভাপতি রকিব হাসানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিল। এই চিহ্নিত দুই আওয়ামীলীগ নেতার নাম ১ ও ২ নম্বরে রেখে সিনিয়র বিএনপি নেতা উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহাম্মদ-এর নাম ৩ নম্বরে দিয়ে মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মির্জা আসাদ জেলা প্রশাসক বরাবর গোপনে চিঠি প্রেরণ করেন।

৪নং মাঘান ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আমিরুল ইসলাম ফরবুদ বলেন যে, মাঘান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ত্যাগী বিএনপি নেতাকে বাদ দিয়ে দুই জন আওয়ামী সমর্থকের নাম কমিটিতে প্রস্তাব করায় আমরা বিস্মিত হয়েছি।

মাঘান ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন যে, আমরা আওয়ামী পরিবারের কোন সদস্য বা নেতাকে এডহক কমিটির সভাপতি হিসাবে মেনে নিব না। এছাড়াও স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিষ্ঠানের ছাত্র অভিভাবকগণ এডহক কমিটির ‘সভাপতি’ পদে নাম পুনঃবিবেচনার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে -প্রধান শিক্ষক মির্জা আসাদ
নিজেও সরাসরি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতেন এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগ দলীও সাবেক সংসদ সদস্য সাজ্জাদুল হাসানের ঘনিষ্ঠ সহচর। এ কারনে তিনি কৌশলে আওয়ামীলীগের দোষরদের তাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বানাতে চান। সেই লক্ষ্যে বিএনপির নেতার নাম তালিকার তিন নম্বরে পাঠিয়েছেন।

উপজেলা বিএনপির আরেকনেতা বলেন, বিএনপির নেতা ফারুক আহাম্মদের নাম ৩নম্বরে দিয়ে
তালিকায় আওয়ামীলীগ সরকারের দোষরদের নাম তালিকার শীর্ষে পাঠানো খুবই দুঃখজনক।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *