স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ২ নং পুটিজানা ইউনিয়নে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সমাজসেবক রাজিব হোসাইন সাদ্দাম খানের উদ্যোগে পরিচালিত বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে পরিষদ প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের আয়োজন করে পুটিজানা ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা নারী-পুরুষ, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুর প্রবাসী রাজিব হোসাইন সাদ্দাম খান নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন। তিনি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, দরিদ্র পরিবারের সহায়তা, রাস্তাঘাট সংস্কারসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রেখে স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
বক্তাদের দাবি, মানুষের কল্যাণে পরিচালিত এসব উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এমনকি সম্প্রতি আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাজিব হোসাইন সাদ্দাম খানের পিতা আলহাজ মোহাম্মদ জিন্নাহ খান তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে নিয়ে অযাচিতভাবে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি তাকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফোনে বলা হয়েছে, “পুটিজানায় সাদ্দাম নির্বাচন করলে ছেলের আশা বাদ দেন।” তিনি এ ধরনের হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, যে ব্যক্তি নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে এলাকার মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন, তাকে নিরুৎসাহিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক। জনকল্যাণমূলক কাজে কোনো ধরনের বাধা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন মেনে নেওয়া হবে না।
তারা আরও বলেন, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে মূল্যায়ন করা উচিত। এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে যারা কাজ করেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্নে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা ও হুমকির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *