সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাথে সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এসডিজি অর্জন” প্রতিপাদ্য নিয়ে ময়মনসিংহে ৩২তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস এবং ২৫তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস-২০২৩ উদযাপিত হয়। ময়মনসিংহের স্বেচ্ছা সংস্থাসমূহের সহযোগিতায়, জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা সাহায্যকেন্দ্রের আয়োজনে জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গনে রবিবার (০৩ ডিসেম্বর) এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
আলোচনা সভায় জানানো হয় যে, শারীরিকভাবে অসম্পূর্ণ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতা প্রদর্শনে এবং তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি সম্মান জানাতে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। সভায় অবহিত করা হয় যে, ময়মনসিংহ জেলায় ৯০ হাজার ২২৭ জন অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের জন্য ৯২ কোটি ৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৪০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মাসিক ৮৫০ টাকা ভাতা হিসেবে এ টাকা উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। ৩ হাজার ৯২১ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি হিসেবে ০৪ কোটি ৩৬ লক্ষ ৯ হাজার ২০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও জানানো হয় যে, দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় এ পর্যন্ত প্রাপ্ত বরাদ্দ ২ কোটি ৩৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩২ টাকা। বরাদ্দের আওতায় থাকাদের মধ্যে পুরুষ ২৮ হাজার ৬৭৭ জন ও মহিলা ২২ হাজার ৭০৭ জন। ময়মনসিংহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ, নিউরো ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের আওতায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এবং অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের জেলা ও উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা যেমন করা হচ্ছে, তেমনি অন্যান্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আঃ কাইয়ুম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভাগীয় কার্যালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, এসডিজি উন্নয়নের জন্য ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রা আছে। আমাদের দেশের শতকরা প্রায় ১০%মানুষ কাজকর্ম করতে অক্ষম। তাদেরকে পিছনে ফেলে আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবোনা। যদি আমাদের তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি থাকে এবং তাদেরকে মনিটরিং করতে পারি, তাহলে দেশের প্রতিবন্ধীদের কর্ম উপযোগী করে গড়ে তুলে জাতীয় সম্পদে পরিনত করা সম্ভব।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ খুরশিদ আলম বলেন, যারা শারীরিকভাবে অক্ষম তাদের ভিতর এমন গুণের অধিকারীও আছে যা আমরা জানি না। তবে সরকার বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকশিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। যাতে তারা সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদ হিসেবে তৈরি হয় ।
আলোচনা শেষে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মালতি সমাজসেবা কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ সারোয়ার, প্রগতি কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবুল কালাম রাসেল, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার রেজাউল করিম খান ,এসডিজি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সেলিনা আজাদ, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
দিবসের শুরুতে বিভাগীয় পরিচালকের নেতৃতে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিতে সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ, প্রতিবন্ধীদের অভিভাবকসহ নগরীর সাধারন জনগণ অংশগ্রহণ করেন। র্যালিতে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।
