মোঃ ইমরুল আহসান
ময়মনসিংহের তারাকান্দা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে তথ্য গোপন ও প্রতারণার মাধ্যমে দলিল সৃজনের অভিযোগ উঠেছে। দলিল নং ১৯০৮ তারিখ ১৭/ ৪/ ২০১৯। দলিলটিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন তারাকান্দা উপজেলার সাব রেজিস্টার জনাব মোঃ ওমর ফারুক।দলিলটি অনুসন্ধান করে দেখা যায় মোহাম্মদ এনামুল হক গং কর্তৃক সৃজনকৃত বন্টনামা দলিলটি তবে তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে সৃজন করা হয়েছে। এই দলিলে এনামুল হক গং তার এক ভাই ও বোনদের পক্ষভুক্ত করেননি। এই জমির রেকর্ডীয় মালিক মৃত মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন কি মূলে জমির মালিক হয়েছেন তা অজ্ঞাত। ভূমির এস রেকর্ড সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা হলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রেজিস্টার ছেড়ার কারণে সই মহরি নকল সরবরাহ করতে পারেননি। ৩৭ ডি এল আর ১১৭ এডি অনুযায়ী কোন অস্তিত্বহীন জমি তফসিল ভুক্ত করে রেজিস্ট্রি করা হলে এ দলিলের রেজিস্ট্রেশন ভেলিড হবে না। তা সত্ত্বেও তৎকালীন তারাকান্দা উপজেলার সাব রেজিস্টার মোহাম্মদ ওমর ফারুক উক্ত বণ্টননামা দলিলটি রেজিস্ট্রি করেন। পরবর্তীতে মোঃ এনামুল হক গং তারাকান্দা সদর ভূমি অফিসে উক্ত রেজিস্ট্রিকৃত জমি দুই ধাপে নাম জারি করেন। সেখানেও প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবিরের প্রস্তাবনায় নাম জারিতে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজাবে রহমত। জমা খারিজ ও নাম জারি আবেদন নম্বর ২৪ ২৮০৮৩ ও ২৬২০৬০৪ , মামলা নম্বর 339-2022/23, মামলা নম্বর 1940-2022/23 । নাম জলে দুটি অনুসন্ধান করে দেখা যায় তারাকান্দা উপজেলার ভূগলী গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিন এর নামে খতিয়ান নং ১৭২ ভূগলী প্রথম খন্ড, ১৫৮দাগে ৫৩ শতাংশ জমি শ্রেণী-কান্দা, BRS রেকর্ডভূক্ত হয়েছে। পরবর্তীতে, মফিজ উদ্দিন এর মৃত্যুর পর তার সন্তানদের নামে নামজারি খতিয়ান গুলো অনুসন্ধান করে দেখা যায়, পুত্র সাজেদুল হকের নামে খতিয়ান 173, জে এল নম্বর 192 মৌজা ভূগলী প্রথম খন্ড 6.5 শতাংশ জমির নাম জারি হয়। পরবর্তীতে ওই একই 158 দাগে মোঃ সাজেদুল হক সহ অন্যান্য ভাইদের নামে খতিয়ান নং 175, জে এল নং 192 মৌজা ভূগলী প্রথম খন্ডে 47.5 শতাংশ জমি নাম জারি হয়। একই দাগে নাম জারিতে মোট জমির পরিমাণ দাঁড়ায় মোট 54 শতাংশ। বিআরএস রেকর্ডে ও বন্টন আমার দলিল অনুযায়ী তাদের জমির পরিমাণ মোট ৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ অতিরিক্ত এক শতাংশ জমি তথ্য গোপন ও প্রতারণার মাধ্যমে করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই জমি ৯১৪ নং দলিল তারিখ ১৯/ ২/ ২০২৩ রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে শায়লা হাসিম ও রেজওয়ানা জাহান জাহান, পিতা মোঃ আবুল হাসেম, দুই বোন এর কাছে বিক্রি করা হয়। দলিলটিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন তারাকান্দা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার জনাব মোঃ নাসিমুল আরিফ।দুই বোন জমি ক্রয় করে সীমা নির্ধারণের সময় অতিরিক্ত এক শতাংশ জমিসহ মোট ৫৪ শতাংশ জমি ধরে জমির সীমানা নির্ধারণ করে। এ ব্যাপারে ভূগলী গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করেন আমার জমির কিছু অংশ বেদখল হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি এসিল্যান্ড তারাকান্দা আদালতে মিস মামলা করেছেন। তিনি ন্যায়বিচার আশা করেন। তিনি আরো আশা করেন এই সব অভিযোগের আলোকে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এগুলো তদন্ত করে ন্যায় বিচার করবেন।
