ইতিহাস বলছে, ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকার দেড় হাজার বছরের পুরনো পেশা। নড়াইলে এখনও এই পেশা টিকে আছে। বর্ষা আর শীতকালই মূলত ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার ভালো সময়। এক-একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভোঁদড়কে দিনে কেজি খানেক মাছ খাওয়াতে হয়। জালে পর্যাপ্ত মাছ ধরা না পড়লে, বাজার থেকে কিনে এনে খাওয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। মাঝারি আকারের নৌকার এক কোণে লম্বাটে একটা বাঁশের খাঁচায় রাখা পাঁচটি ভোঁদড়। কেজি দুয়েক পুঁটি মাছ বাজার থেকে কিনে আনা হয়েছে তাদের জন্য। খাঁচার ঢাকনা সরিয়ে মাছ খেতে দিতেই একযোগে পাঁচটি ভোঁদড়ের লাফালাফি শুরু। খাবার খেয়ে কিছুটা শান্ত হলে তাদের নামানো হলো পানিতে। দড়ি দিয়ে বাঁশের সঙ্গে বাঁধা ভোঁদড়গুলো সাঁতরাতে শুরু করতেই জাল ফেলা হলো নদীতে। পাড়ের দিকে ঝোপঝাড়ের নিচে সাধারণত লুকিয়ে থাকে মাছ। সেই মাছগুলোকেই তাড়া করে জালের দিকে পাঠায় ভোঁদড়। জালে মাছ উঠলে, তা টেনে নৌকায় তোলেন জেলেরা। বিনিময়ে আরও কিছু মাছ খেতে পায় ভোঁদড়গুলো। নড়াইল সদর উপজেলায় চিত্রানদীর পাড়ের গোয়ালবাড়ি গ্রামের মালোপাড়ায় ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার দেড় হাজার বছরের পুরোনো এই রীতি। এলাকার যে পাঁচ জেলের পরিবার এখনো ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার রীতি বয়ে চলেছেন তাদের একজন শ্যাম বিশ্বাস। মাঝিসহ অন্তত চারজনের সহযোগিতা দরকার হয় মাছ ধরার এই পদ্ধতিতে। জেলেরা বললেন, বর্ষাকাল আর শীতকালই মূলত ভোঁদড় দিয়ে মাছ ধরার ভালো সময়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীর বেহাল দশা, চায়না জাল দিলে মাছ ধরা, নদীতে ঘের কেটে মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট করাসহ নানান কারণে এখন মাছ ধরার মৌসুমেও সাধারণ জেলেদের দিন কাটে দুর্দশায়। এক-একটি প্রাপ্তবয়স্ক ভোঁদড়কে দিনে কেজি খানেক মাছ খাওয়াতে হয়। জালে পর্যাপ্ত মাছ ধরা না পড়লে, বাজার থেকে কিনে এনে খাওয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। বছরে চার-পাঁচটি করে বাচ্চা দেয় ভোঁদড়েরা। মা ভোঁদড়ের কাছে পর্যাপ্ত দুধ না পেলে, ফিডারে করে গরুর দুধ খাওয়াতে হয় বাচ্চাদের। অসুখ-বিসুখ হলে ওষুধ কিনে খাওয়াতে হয়।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *