মোঃ আল ইমরান
স্টাফ রিপোর্টার
জন্ম থেকেই হৃদযন্ত্রে জটিল সমস্যা নিয়ে বেঁচে থাকা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার দশ বছর বয়সী শিশু তাইবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মানবিক এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিশুটির অস্ত্রোপচার সোমবার রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে সম্পন্ন হয়।
তাইবা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের হাটশিরা-শিবনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা ওয়াশ কুরুনি সাত বছর আগে মারা যান। এরপর থেকেই মায়ের একার হাতে বেড়ে উঠছে সে। মা মোমেনা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে যেভাবে পারছেন সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রায় এক বছর আগে তাইবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানোর পর তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, শিশুটি হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্মেছে এবং তার দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
কিন্তু অভাব-অনটনের সংসারে চিকিৎসার বিপুল ব্যয় বহন করা মোমেনা খাতুনের পক্ষে সম্ভব ছিল না। একপর্যায়ে সাহায্যের আশায় তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বিষয়টি জানার পর ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিনা দ্বিধায় শিশুটির চিকিৎসা খরচের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চিকিৎসা প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয় এবং অবশেষে অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে তাইবা রাজধানীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এর আগেও একাধিক শিশু ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিছুদিন আগে জন্মগতভাবে হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেওয়া তিন বছর বয়সী আব্দুল্লাহ নামের আরেক শিশুর চিকিৎসা তিনি করিয়ে সুস্থ করে বাড়ি পাঠান। এছাড়া তিনি কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় বিভিন্ন সময়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছেন।
তিনি বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর এলাকার অসহায় মানুষের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। যতটা পারি, তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই। ভবিষ্যতেও এ রকম মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
শিশু তাইবার মা মোমেনা খাতুন বলেন, আমি কখনো ভাবিনি আমার মেয়ের চিকিৎসা হবে। আল্লাহ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাহেবকে রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। উনি সাহায্য না করলে আমার মেয়েকে বাঁচাতে পারতাম না।
এই মানবিক উদ্যোগটি এলাকায় প্রশংসার জোয়ার বইয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এ ধরনের দৃষ্টান্ত সমাজে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
