সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এর আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে ৪র্থ ত্রৈমাসিক সভা সোমবার (১৫ জুন) বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। এছাড়াও বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) প্রদীপ কুমার সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিলসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এতে নারীদের উপর ধূমপানের বিরূপ প্রভাব এবং গর্ভাবস্থায় নিকোটিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর কর্মকর্তা ডাঃ ইশরাত জাহান।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রত্যক্ষভাবে নারীদের ধূমপান গ্রহণের হার তুলনামূলক কম, মাত্র ১ দশমিক ০২ শতাংশ। আর ধোঁয়াবিহীন তামাক যেমন জর্দা, গুল ও সাদাপাতা ব্যবহারের হার প্রায় ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ। তবে পরোক্ষভাবে প্রায় ৭৪ শতাংশ নারী নিয়মিতভাবে নিজ বাড়িতে বা পাবলিক প্লেসে ধূমপানের শিকার হন, যা প্রত্যক্ষভাবে ধূমপানের সমান ক্ষতিকর। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ অনুযায়ী, পাবলিক প্লেসে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার, বিজ্ঞাপন, প্রচারণা নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান এবং শিশুপার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ।

সভাপতি বলেন, ধূমপানে সাময়িক সময়ের অনুভূতি ছাড়া ভালো কিছুই নেই, পুরোটাই ফুসফুস ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। পরিবারে বাবা যদি ধূমপায়ী না হন, সন্তানরাও সাধারণত ধূমপানমুক্ত থাকে।শিক্ষার্থী ও উঠতি বয়সী ছেলেদের ধূমপানের দিকে আসক্তির হার বেশি। তাই হাইস্কুল ও কলেজের সামনে মাইকিং, প্রচারণা, সচেতনতামূলক বিলবোর্ড এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। ধূমপানের মাধ্যমেই সন্তান পরবর্তীতে মাদক ও অন্যান্য ক্ষতিকর দ্রব্য ব্যবহারে আসক্ত হয়ে যায়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান উভয়ই সমান ক্ষতিকর। তাই সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ও প্রচারণার মাধ্যমে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *