মোঃ নাসিরউদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহীর পবায় ক্লাস চলাকালে দুর্ঘটনা; গুরুতর আহত শিশুকে হাসপাতালে নিতে গড়িমসির অভিযোগ

রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত বায়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন চলন্ত সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। আহত শিশুটিকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে না নেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকরা।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণির ‘ক’ শাখায় পাঠদান চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের সিলিং ফ্যানটি খুলে নিচে পড়ে যায়। এতে ওই শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম ইসলাম মাথা, চোখের ওপর এবং মুখের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পায়। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হুড়োহুড়ি শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয় চলাকালীন সময়েই বাইরে অপেক্ষমাণ ছিলেন আহত শিক্ষার্থীর মা মোসা. সেলিনা আক্তার সেলি। হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি দৌড়ে এসে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে শিক্ষকরা শিশুটিকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বসিয়ে রাখেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মা নিজেই দ্রুত ছেলেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেও শিশুটির চোখের নিচে চারটি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া তার নাক ও গালেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান এবং চিকিৎসা শেষে সন্তানকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার কারণ জানতে তিনি দু’বার বিদ্যালয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি।

শিক্ষার্থীর মা সেলিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন,

“সকাল থেকে আমি স্কুলের বাইরে অপেক্ষা করছিলাম। এত বড় দুর্ঘটনার পরও আমার ছেলেকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে আমিই হাসপাতালে নিয়ে যাই। এরপরও স্কুল থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদা বানু ভুক্তভোগী পরিবার সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,“সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে কোনো লাভ হবে না। এ বিষয়ে কথা বলতে হলে অফিসে এসে যোগাযোগ করতে হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও ওই বিদ্যালয়ে ফ্যান পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একবার এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যায়, আরেকবার এক শিক্ষকের কক্ষেও ফ্যান খুলে পড়ে।

এ বিষয়ে পবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জোবায়দা রওশন জাহান বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ভুক্তভোগী পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি নিজেও শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *