বিশেষ প্রতিবেদক
মোঃ নাসিরউদ্দিন
আষাঢ়-শ্রাবণ পার হয়ে ভাদ্রের কড়া রোদ চললেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই উত্তরের খাদ্যভাণ্ডারখ্যাত নওগাঁ ও রাজশাহী অঞ্চলে। স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না থাকায় বরেন্দ্র ভূমির বিস্তীর্ণ আমন খেতের মাটি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বর্ষানির্ভর এ প্রধান দানাদার ফসলের চারা রোপণ ও বর্ধনশীল পর্যায় পানির অভাবে থমকে দাঁড়ানোয় মাথায় হাত পড়েছে স্থানীয় চাষিদের।
বর্তমান মাঠ চিত্র ও সংকট
মাঠের অবস্থা: নওগাঁর নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার, মহাদেবপুর এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর ও পবা উপজেলার বিস্তৃত আমন খেত পানির অভাবে তীব্র খরার কবলে পড়েছে। অনেক জায়গায় চারা লাগানোর পর জমি শুকিয়ে লালচে ও ধূসর বর্ণ ধারণ করছে।
সেচনির্ভরতা ও খরচ বৃদ্ধি: আকাশ বৃষ্টির মুখ না দেখায় বাধ্য হয়ে অগভীর ও গভীর নলকূপের সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছেন কৃষকেরা। এতে সেচযন্ত্রের ডিজেল ও বিদ্যুৎ বাবদ বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও লোডশেডিং সংকট: গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সময়মতো জমিতে পানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বরেন্দ্র এলাকার উঁচু জমিগুলোতে পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
কৃষকদের আকুতি
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণে তারা দিশেহারা। পানি না পেলে রোপণ করা চারা রক্ষা করা কঠিন হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফলনে। চড়া দামে সার, বিষ ও তেল কিনে বাড়তি সেচ খরচ দিয়ে ধান আবাদ করার পর ন্যায্য দাম না পেলে চরম লোকসানে পড়বেন তারা।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনাবৃষ্টির কারণে বিকল্প হিসেবে গভীর ও অগভীর নলকূপ (বিএমডিএ) সার্বক্ষণিক সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল না থেকে সম্পূরক সেচ দিয়ে আমন খেত ভিজিয়ে রাখা ও মাটি শুকানো প্রতিরোধে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে অনতিবিলম্বে ভারী বৃষ্টি না হলে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *