মোঃ নাসিরউদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং মানুষের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতনতামূলক এ আহ্বানে বলা হয়, গাছ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘরবাড়ি নির্মাণ, আসবাবপত্র তৈরি, জ্বালানি, বিভিন্ন যানবাহন, ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে কাঠের ব্যবহার অপরিহার্য। এছাড়া বিভিন্ন ঔষধ তৈরিতেও ঔষধি গাছের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ফলজ গাছের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, নিয়মিত মৌসুমি ফল খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে এসব ফল পশু-পাখির খাদ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।
বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ইসলামের দৃষ্টিতেও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) গাছ লাগানোর প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন।
সচেতনতামূলক বার্তায় বলা হয়, মানুষ যে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে, গাছ তা গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে মানবজীবন টিকিয়ে রাখে। তাই নিজেদের প্রয়োজনে রাস্তার ধারে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খালি জমি ও বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ এবং পরিচর্যা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারের চাহিদা পূরণ, আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিতরণ এবং অতিরিক্ত ফল বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হওয়া সম্ভব। পাশাপাশি গাছের ছায়ায় পথচারীরা বিশ্রাম নিতে পারবেন, পশু-পাখি খাদ্য পাবে এবং অসহায় মানুষও উপকৃত হবে। এসব কাজ মানুষের জন্য সাদাকায়ে জারিয়ার মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সবশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
