মোঃ নাসিরউদ্দিন
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
মাহমুদার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউপির কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা চা বিক্রেতা মাসুদ রানা ও মা সায়েরা বিবি একজন গৃহিনী। মাসুদ রানার শুধু দুই মেয়ে । এর মধ্যে মাহমুদা বড়, ছোট মেয়ে মিম খাতুন ৬ষ্ট শ্রেনীতে পড়াশুনা করেন। মাহমুদা খাতুন ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ ও ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ হতে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ -৫ পেয়েছেন।বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহমুদা ছোট থেকেই পড়াশুনাই আগ্রহী। আমরা পড়া লেখা জানিনা। মেয়ে পড়ার আগ্রহ দেখে খেয়ে না খেয়ে গ্রামের প্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পর্যন্ত পড়াছি। প্রাইভেট পড়ার টাকাও দিতে পারিনি সে সময়। সে গরীবের মেয়ে হলেও তার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল ডাক্তারি পড়ার। তার মেধাশক্তি ও ইচ্ছার প্রতিফলন আল্লাহপাক কবুল করেছেন। মাহমুদার বাবা মাসুদ রানার মোবাইল নং ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯।মাসুদ রানা বলেন, আমি গ্রামের ছোট দোকানের চা বিক্রি করে প্রতিদিন আয় হয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এতে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। এ আয় দিয়েই আমি গ্রামের কলেজে কোন রকম পড়ালেখা করাতে পেরেছি। এখন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। ভর্তি সময় ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে সে টাকাও ধার করে। ক্লাশ শুরু হয়েছে তার বই কিনতে লাগবে ২০ হাজার ও একটি স্কিলেটন(কঙ্কল) যার মুল্য ৪০ হাজার টাকা। এতো টাকা জোগার করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়াও প্রতি মাসে খাতা কলম ও হোস্টেলের খাওয়া খরচ মাহমুদার লাগবে আরো ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে।মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্না কন্ঠে বলেন,আমাদের কোন সম্পতি নেই যে বিক্রি করে মাহমুদাকে পড়ার খরচ জোগাবো। গ্রামে মাত্র ২ শতক জমিতে মাটি ও বেড়ার তৈরির বাড়িতে বাস করি। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকে। মেয়েটি ছোট থেকে ধার্মিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। আল্লাহর কাছে কান্না করেন যেন পড়াশনা করে বড় ডাক্তার হয়ে গ্রামের সাধারণ গরীব-দুখি মানুষের ফ্রি চিকিৎসা করতে পারেন।সাহেরা বিবি বলেন, আমার এ গরীব মেয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছে। তার যে ডাক্তার হওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে সে জন্য রাষ্টের বর্তমান সরকার ও দেশের বিত্তমানদের কাছে আমার বিশেষ অনুরোধ আমার মেয়ে পাশে আমরা দাড়াবেন।মাহমুদা খাতুন বলেন, ১ম বর্ষের ক্লাশ শুরু হয়েছে।
