নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সৃষ্ট ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে বৈশ্বিক ঋণসংকট নিরসন, জলবায়ু ক্ষতিপূরণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের নীতিতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জামালপুর শহরের ফুলবাড়ীয়ায় পিটিআই গেট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), জামালপুরের উদ্যোগে এবং সমাজ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (এসপিকে) সহযোগিতায় কর্মসূচিটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সমাজ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (এসপিকে) প্রধান নির্বাহী এবং ধরা জামালপুরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এনামুল হক।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ধরা জামালপুরের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান মহব্বত, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. আমির উদ্দিন এবং জামালপুর সিটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মুনিরুল হক নোবেল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রশিদপুর বটতলা সিবিওর নির্বাহী পরিচালক মোস্তাকিমা, দাপুনিয়া মহিলা উন্নয়ন সমিতির
সভানেত্রী বিবি হাওয়া, জিগাতলা অপরূপা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভানেত্রী সাইদা বেগম শ্যামা, অগ্রদূত সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আনিছুর রহমান, ধরা জামালপুরের তরুণ নেতা অর্ক মোবাশ্বিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগণ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক বৈষম্য, ঋণসংকট ও জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। উন্নয়নের নামে ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক খাতের বরাদ্দ সংকুচিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য ঋণ ও উচ্চ সুদের কিস্তি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঋণের অর্থ কোন উদ্দেশ্যে এবং কার স্বার্থে ব্যয় হয়েছে, তা জনসমক্ষে প্রকাশের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক ঋণ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে ধনী ব্যক্তি ও বৃহৎ করপোরেশনের ওপর প্রগতিশীল কর আরোপ, কর ফাঁকি বন্ধ এবং অর্থপাচার রোধের আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের দায় দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ন্যায্য কর আদায় নিশ্চিত করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর উন্নয়নের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু বিপর্যয়ের ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ অর্থ নতুন ঋণ হিসেবে নয়, বরং অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের মাধ্যমে দিতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তরেরও দাবি জানান তাঁরা।
কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে বক্তারা খাসজমি ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় বীজের সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান। একই সঙ্গে নারী ও আদিবাসী কৃষকদের জমির অধিকার স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, “মুনাফার পৃথিবী নয়, মানুষের পৃথিবী গড়তে হবে।” সম্পদ ও ক্ষমতার ওপর জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচার, ঋণমুক্তি এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
