আরিফ রববানী
ময়মনসিংহ
সারাদেশে জ্বালানি সংকটে ভুগছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহন নিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন চালকরা ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন এর জন্য। ময়মনসিংহ নগরীসহ জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন গুলোতে এমন চিত্র অহরহ দেখা যাচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ জ্বালানি তেল মজুদ রাখছেন কি না তা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের দিক নির্দেশনায় ২৭ মার্চ শুক্রবার জেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গণ জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন গুলোতে ঘুরছেন। বন্ধ ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ কে তেল বিক্রির নির্দেশনা দিচ্ছেন।সাথে সাথেই স্টেশন কর্তৃপক্ষ তেল বিক্রি শুরু করেন।এতে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে গ্রাহকদের মাঝে।

খোজ নিয়ে জানা যায়- শুক্রবার ২৭মার্চ জেলা সদরের মাসকান্দা,ফুলবাড়িয়া, তারাকান্দা, নান্দাইল, ফুলপুর, হালুয়াঘাটসহ বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলো জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় একযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. নাজমুস ছালেহীন,শেখ তাকী তাজওয়ারসহ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গণ।

অভিযান চলাকালে উপজেলার মোট ৫টি ফিলিং স্টেশনে মজুদ ট্যাংক পরীক্ষা করে জ্বালানি তেলের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ঢাকুয়া ইউনিয়নের “আড়িয়াল ফিলিং স্টেশন” এবং তারাকান্দা ইউনিয়নের “হিমালয় ফিলিং স্টেশন”-এ পর্যাপ্ত বিক্রয়যোগ্য পেট্রোলিয়াম মজুদ পাওয়া যায়।

ফলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতেই উক্ত দুই স্টেশনে পুনরায় তেল বিক্রয় কার্যক্রম চালু করা হয়, যা স্থানীয় গ্রাহকদের মাঝ স্বস্তি ফিরে আসে।
অন্যদিকে, তারাকান্দা ইউনিয়নের “চৌধুরী ফিলিং স্টেশন” ও “জামান ফিলিং স্টেশন”-এ পেট্রোল ও অক্টেনের কোনো মজুদ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহের পর পুনরায় বিক্রয় কার্যক্রম চালু করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে এসব ফিলিং স্টেশনেই ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও গ্রাহকরা তেল না পাওয়ায় জানআাহনে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই দিনে জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তাকী তাজওয়ার এর নেতৃত্বে উপজেলার মেসার্স ইসলাম ফিলিং স্টেশন এবং মেসার্স মিলেনিয়াম ফিলিং স্টেশন লিমিটেড -এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। স্টক রেজিস্টার পর্যালোচন্তে ডিজেল ১৫১৫৪.০০ লিটার, পেট্রোল ৮৫২.০০ লিটার, অকটেন ৪৫১.০০ লিটার মজুদ রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি না করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় যানবাহনে তেল বিক্রয়ের ক্ষেত্রে রেজিস্টার ব্যবহার করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার সহ ফিলিং স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ফুলবাড়ীয়া টু ময়মনসিংহ রুটে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি মনিটরিং করা হয়। মনিটরিংকালে সিএনজির ভাড়া বিষয়টি স্বাভাবিক পরিলক্ষিত হয়।

অভিযানকালে সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করা হয়। গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল ক্রয় করা থেকে বিরত থাকাসহ মজুদ না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়, যাতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকে।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন, ময়মনসিংহ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানান,মজুদ রেখে জ্বালানি তেল কেউ যেন সংকট তৈরি না করতে পারে তার জন্য প্রশাসন সদাসর্বদায় তৎপর হয়েছে।অবৈধ মজুদদারিদের বিরুদ্ধে
এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম সর্বদায় অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *