মোঃ শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল লটারি ও অপেক্ষমাণ তালিকার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক মো. মুজাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক অভিভাবক।

অভিযোগকারী রেশমা আক্তারের দাবি, তাঁর ছেলেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সহকারী শিক্ষক মো. মুজাহিদুল ইসলাম প্রথমে এক লাখ টাকা নেন। পরে প্রধান শিক্ষককে দেওয়ার কথা বলে আরও এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। তবে প্রধান শিক্ষক টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সম্প্রতি গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি মো. আরিফ-উজ-জামানের কাছে এ অভিযোগ দেন রেশমা আক্তার। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে দুই দিন ক্লাস করার সুযোগ দেওয়ার পর জেলা প্রশাসকের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে ক্লাস করতে নিষেধ করা হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে ডিসি অফিস ম্যানেজ করার অজুহাতে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির দিবা ও প্রভাতী শাখায় নির্ধারিত ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দিবা শাখায় আব্দুর রহমান (রোল ৩৩৭) ও প্রভাতী শাখায় ইস্তিয়াক হোসাইনকে (রোল ৩৩৫) ভর্তি করার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রভাতী শাখায় মাহিন হাওলাদার (রোল ২৫৫) এবং এপ্রিলে সৌহার্দ্য ভাদুড়িকে (রোল ২৫৭) ভর্তি করার কথা বলা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এসব ভর্তি ডিজিটাল লটারি ও নির্ধারিত অপেক্ষমাণ তালিকার বাইরে সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারীসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রেণিতেও একইভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, লটারিতে সুযোগ না পাওয়া কিছু অভিভাবকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো যাচাই করা যায়নি।

যা বলছেন প্রধান শিক্ষক

নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ। তিনি বলেন, তৎকালীন সময়ে একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার সুপারিশে ওই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছে। তবে ভর্তির জন্য কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ভর্তি কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসককে না জানিয়ে কীভাবে এসব শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ভর্তি কমিটির সভাপতি মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, “একজন অভিভাবকের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক মো. মুজাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *