মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

বর্তমানে কিশোর গ্যাং একটি আতংকের নাম এদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সমাজের কিছু বড় ভাই আছে যারা এদের অন্যায়ের পক্ষে সেল্টার দেয় তাদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

বর্তমান সমাজে কিশোর গ্যাং তাদের ভয়ংকর কার্যকলাপ, দূরদর্শিতা এবং অসামাজিক কার্যকলাপ সবাইকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

ইদানিং প্রতিটি শহর, গ্রাম এবং মহল্লায় ব্যাংঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠেছে কিশোর গ্যাং এর দল।

কিশোর গ্যাং বলতে বুঝায় উঠতি বয়সের ছেলেদের সমন্বয়ে গঠিত সংঘবদ্ধ দলকে, যারা সংগঠিত হয়ে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।
তারা বিভিন্ন থ্রিলার মুভি, ইংলিশ মুভি এবং পাপজি, ফ্রী ফায়ারের মতো গেমস থেকে আইডিয়া নিয়ে তা বাস্তবে প্রয়োগ করার চেষ্টা থেকেই কৌতূহলবশে নিজেদেরকে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে ফেলছে।

প্রথমে ছোট ছোট অপরাধ থেকে শুরু করে এক সময় তারা বড় বড় অপরাধের সাথে নিজেদেরকে জড়িয়ে ফেলছে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা এর থেকে বেড় হয়ে আসতে পারছেনা।
এলাকার বা মহল্লার কিছু অসাধু বড় ভাই তাদের ব্যবহার করে সামাজিক এবং রাজনৈতিক ফয়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মূলত এসব বড় ভাইদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে থেকেই তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে এবং অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে পরছে। একটি ফোন কলেই শতশত বন্ধুরা মুহূর্তেই একত্রিত হয়ে তান্ডব চালাতে কোনো দ্বিধাবোধ করেনা। এলাকার যেকোনো মারামারি এবং অপরাধমূলক কর্মকান্ডে সবার আগে তারা থাকে।

এই কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা একটা সময় নিজেদেরকে সর্বেসর্বা ভাবতে থাকে, তখন তাদের কাছে পরিবার এবং সমাজের লোকজন কিছুই না, শুরু হয় বড়দের সাথে বেয়াদবি, ছোটদের প্রতি অনধিকার চর্চা, পরিবার এবং সমাজের শাসন বারণ কোনো তোয়াক্কা করেনা তারা।
বন্ধুদের পালায় পরে ভালো মন্দ বিবেচনা না করে জড়িয়ে পরছে অসামাজিক কার্যক্রলাপ এবং অপরাধের সাথে।

সমাজের বড়রাও তাদের শাসন করতে ভয় পায় যদি অপ্রীতিকর কিছু করে বসে। মান সম্মানের ভয়ে তাদেরকে সবাই শাসন করতে ভয় পায়, পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
তারা সমাজে বা মহল্লায় ওপেনলি সিগারেট খাচ্ছে, নেশা জাতীয় মারাত্বক ক্ষতিকর মাদক দ্রব্য সেবন করছে, যার প্রভাব পরছে পরিবার এবং সমাজের উপর।
একটি নেশাগ্রস্ত সন্তানই তার পরিবারকে ধ্বংসের জন্যে যথেষ্ট।

উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন ছবি এবং নাটক দেখে ফাকি দেওয়ার কৌশল শিখে নিয়েছে সহজে।
তারা দিন দিন মোবাইল, ইন্টারনেট, গেমসের প্রতি আসক্ত হয়ে পরছে। সুযোগ পেলেই এর অসৎ ব্যবহার করছে, বিভিন্ন পর্ণ সাইটে ভিজিট করছে। এশার এবং তারাবি নামাজের নাম করে বাসা থেকে বের হয়ে নির্জনে গিয়ে মোবাইলে গেমস খেলছে।
বাসার লোকজন আদোও তা জানতে পারেনা।

এর জন্যে মূলত দায়ী করা যায় পারিবারিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবকে।

এখনই যদি তাদের লাগাম টেনে ধরা না যায় তাহলে ভবিষ্যতে তারা পরিবার এবং সমাজের জন্যে ভয়ংকর হয়ে উঠবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *