মোঃ ইমরুল আহসান

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলাস্থ রুদাঘরা ইউনিয়নের রুদাঘরা গ্রামের গোলদার বাড়িতে ছেলেদের দ্বারা বৃদ্ধ মা বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বৃদ্ধ আহাদ আলী গোলদার (৯০), তার ১৪ সন্তানের ভিতর ২ সন্তান মারা যায় এবং বর্তমানে ১২ সন্তান জীবিত আছে।যার মধ্যে ৬ জন ছেলে ও ৬ জন মেয়ে। তার বড় ছেলে বাবুল গোলদার (৫৫) সহ আরো ২ ছেলে জাকির গোলদার ও রোকন গোলদার প্রায়সময়ই তাদের বয়োবৃদ্ধ বাবা মা কে নির্যাতন করে। সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবাকে শারীরিক নির্যাতন করে এর জন্য ভুক্তভোগী থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেয় না বলে জানা যায়।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে বৃদ্ধ আহাদ আলী গোলাদার জানান তার ছোট মেয়ে সম্প্রতি তার স্বামীকে ডিভোর্স দেয় আর এ নিয়ে তিনি ঐ মেয়েকে শাসন করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে রাতের অন্ধকারে তার বাবার ঘরে চুরি করে নগদ টাকা, কাপড়চোপড় নিয়ে যায় এবং এ বিষয়টি তার ছেলেদের জানালে তারা এর প্রতিকার না করে উল্টো বৃদ্ধ বাবাকে গালাগালি করে এবং এক পর্যায়ে তারা আহাদ আলী গোলাদারকে মারধোর করে তখন তার স্ত্রী বাধা দিতে আসলে তিনিও শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হন। তিনি আরো জানান তার ছেলেরা কেউই তাদের ভরণপোষণ করেন না এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকলেও কেউই তাদের সেবা শুশ্রূষা করে না। তিনি বলেন ১৯৮৪ সালে তার বড় ছেলে বাবুল গোলাদারের নামে ১ একর ৫৫ শতাংশ জমি দলিল করেন কিন্তু পরবর্তীতে তার ছেলেকে তিনি ঐ সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে বলেন যাতে করে তিনি তার সকল সন্তানকে ওয়ারিশান হিসেবে সম্পত্তি বন্টন করে দিতে পারেন কিন্তু বাবুল গোলদার ঐ কথায় কর্ণপাত না করে বিভিন্ন উসিলায় কালক্ষেপণ করতে থাকে। সরেজমিনে আরো জানা যায় বৃদ্ধ আহাদ আলী গোলাদার তার মেয়েদেরকে তার বসতবাড়িতে থাকার জন্য ঘর তুলতে বলেন আর বেগম নামের মেয়ে ঘর তোলার পরে সে তার বাবা মায়ের সেবা যত্ন করতে থাকে এতে করে বাড়িতে থাকা বাকি সন্তানরা বেগমের উপর অত্যাচার করতে থাকে। এমনকি বেগমের ঘড়ে চুরির ঘটনাও ঘটে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায় এবং সে অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। বেগম তার বক্তব্যে বলেন তার ভাইয়েরা যেকোন মূহুর্তে তার বাবা মা সহ তাকেও মেরে ফেলতে পারে এবং এ বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে হুমকি দিতেছে।
এসকল বিষয়ে অভিযুক্ত সন্তানদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের ছোটবোন তাদের বাবার ঘরে চুরি করেছে এবং তারা চুরি যাওয়া টাকা ফেরত দানের ব্যাবস্হা করে দিবে। তবে বাবা মাকে নির্যাতনের বিষয়টি তারা অস্বীকার করে এবং তারা আরো অভিযোগ দেয় তাদের বাবা তার সকল সম্পত্তি এই ৯০ বছর বয়সেও একাই ভোগদখল করে যার বিন্দুমাত্রও তাদেরকে দেয় না। তারা আরো বলে বাবুল গোলাদারের বয়স হয়ে গেছে ৫৫ বছর এই বয়সেও বাবার সম্পত্তির ওয়ারিশ না পেলে তবে কি মরার পরে পাবে? তারা আরো বলে বোনরা যে পরিমাণ ওয়ারিশ পাবে তার সমপরিমাণ জায়গা তারা অন্যত্র কিনে দিবে তবুও তাদের সাথে বাড়িতে না রাখার পক্ষপাতী।
চেয়ারম্যান, মেম্বারকে অবগত করে স্হানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে একটি শালিসি বৈঠকের ব্যাবস্হা করে। উক্ত শালিসি বৈঠকে বৃদ্ধ আহাদ আলী গোলাদার তার ছেলেরা তাকে অত্যাচার করে এ বিষয়টি স্বীকার করে এবং সে তার সম্পত্তি একাই ভোগ করে এটাও স্বীকার করে। উভয়পক্ষের উপস্হিতিতে বক্তব্য শোনার পরে অভিযুক্ত সন্তানগন ভবিষ্যতে তারা তাদের বাবা মায়ের উপর কোনরকম অত্যাচার করবে না যদি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্হা গ্রহন করা হবে,তাদের বোনদের বিশেষ করে বেগমের উপর কোনরকম নির্যাতন করবে না ও বাবুল গোলাদারের কাছে যে সম্পত্তি আছে সে তা তার বাবার নামে দলিল করে দিবে অথবা তার বাবার সম্পত্তির ওয়ারিশ হিসেবে যেটুকু পাবে সেটুকু রেখে বাকিটুকু দলিল করে দিবে এই মর্মে একটি অঙ্গীকারনামায় উপস্হিত সকলের সামনে স্বাক্ষর করে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *