সামদানি হোসেন বাপ্পী

কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম: “প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা যায় না, তদন্তের ফলাফলই শেষ কথা”

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চুলিগড়া টাওয়ার মার্কেট এলাকায় পোশাক শ্রমিক সাহেরা ১৭ এর মৃত্যুর ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে “মূল আসামিকে আড়াল করা” ও “ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা” সংক্রান্ত যে অভিযোগ উঠেছে, তার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

*ঘটনার প্রাথমিক তথ্য*
বুধবার ১০ জুন দিবাগত রাতে চুলিগড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাহেরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাহেরা টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোবিন্দা এলাকার জলিল মিয়ার মেয়ে। স্বামী শ্যামলের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

খবর পাওয়ার সঙ্গে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এটি প্রমাণ করে পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

*অভিযোগ ও পুলিশের অবস্থান*
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; সাহেরাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। ভাড়া বাড়ির মালিকের ছেলে মানিককে মামলার আসামি না করায় তদন্ত ও এজাহার গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারো নাম বাদ দেওয়া বা আড়াল করার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামতই মূল ভিত্তি। এসব ছাড়া আগাম কাউকে আসামি করা আইনের শাসনের পরিপন্থী। আমরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছি।”

*প্রতিবাদের যুক্তি*
১. *তদন্ত চলমান*: ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা সম্ভব নয়। তার আগেই “হত্যা” বা “আসামি আড়াল” মন্তব্য তদন্তকে প্রভাবিত করে।
২. *পেশাদারিত্ব*: ওসি মো. শহিদুল ইসলাম যোগদানের পর কালিয়াকৈরে মাদক, চুরি ও ছিনতাই দমনে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ পুলিশের নৈতিক মনোবল ক্ষুণ্ণ করে।
৩. *আইনের শাসন*: এজাহারে নাম অন্তর্ভুক্তি নির্ভর করে প্রাথমিক তথ্য ও সাক্ষ্যের ওপর। তদন্তে নতুন তথ্য-প্রমাণ আসলে সংশ্লিষ্ট যে কাউকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

সাহেরার পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায় সেটাই সকলের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমাননির্ভর বক্তব্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কালিয়াকৈর থানা পুলিশ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক, সত্য উদ্ঘাটিত হোক।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *