মোঃ নাসিরউদ্দিন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর থেকে বায়া পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বর্তমানে বেহাল দশায় পরিণত হয়ে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় এটি এখন স্থানীয়দের কাছে একটি ‘মৃত্যুফাঁদ’-এ রূপ নিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী ও চালকরা।
সড়কজুড়ে বিপজ্জনক গর্ত ও জলাবদ্ধতা
তানোর-বায়া সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙেচুরে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে সড়কগুলো কাদাময় জলাশয়ে পরিণত হয়। এর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মতো যানবাহন। সম্প্রতি বায়া এলাকার একটি অংশে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কে ধানগাছ রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই বেহাল অবস্থার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পাশের ড্রেনে পড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে যাত্রীরা বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেলেও এটি এই সড়কের ভয়াবহতার সর্বশেষ জীবন্ত উদাহরণ।
চলমান কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
জানা গেছে, তানোর-বায়া সড়কের বাঘধাণী থেকে কাজিমবাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সংস্কারে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সৈকত এন্টারপ্রাইজ’ এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও বিভিন্ন স্থানে ড্রেন, কালভার্ট ও ব্রিজের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৬২ শতাংশ কাজ শেষের দাবি করলেও বাস্তবে সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। বায়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তেঘর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এই প্রকল্পের আওতায় আছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা
স্থানীয়দের অভিযোগ, হিমালয় কোল্ড স্টোরেজের দেওয়ালঘেঁষা সড়কের পাশের ড্রেনের একটি অংশ দখল করে কাঠ-কাঠির ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে, ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে পিচ ও ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এছাড়া কালভার্টগুলো সড়কের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশস্ত না করায় এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় দুর্ঘটনা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি ও ক্ষোভ
কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান থাকা সত্ত্বেও সড়কের এমন বেহাল দশা কেন—তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা অবিলম্বে সড়কের কোন অংশ কোন প্রকল্পের আওতায়, কত টাকা বরাদ্দ, কাজের মেয়াদ ও ঠিকাদারের কাজের মান নিয়ে তদন্ত করে তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের দুই পাশের ড্রেন দখলমুক্ত করা, পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কার করে সড়কটিকে নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
