ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে শ্রবণ উপকরণ ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিনজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর মাঝে এ সহায়তা বিতরণ করা হয়। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ শিক্ষার্থীদের হাতে শ্রবণ উপকরণ ও নগদ অর্থ তুলে দেন।
এ সময় কোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অজয় চন্দ্র মোদক এবং গালাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জাওয়াদ হাসনাত কে শ্রবণ উপকরণ প্রদান করা হয়। এছাড়া একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তারকে নগদ ২ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিডিইপি-৪) এর অর্থায়নে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও শিক্ষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
গালাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাওয়াদ হাসনাতের মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, শ্রবণ উপকরণ পেয়ে আমরা খুবই খুশি। এই উপকরণের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের শ্রবণজনিত সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। তারা অন্য শিক্ষার্থীদের মতো পাঠদানে মনোযোগ দিতে পারবে এবং লেখাপড়ায় আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে আমরা আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে এসব শিশুদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ হতে হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন, সরকার পিছিয়ে পড়া ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বদ্ধপরিকর। কোনো শিক্ষার্থী যেন শারীরিক বা অন্য কোনো সমস্যার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে শ্রবণ উপকরণ এবং নগদ অর্থ প্রদান সরকারের সেই উদ্যোগেরই একটি অংশ। এসব সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়ক উপকরণ প্রদান তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং পাঠদানে মনোযোগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *