উবায়দুল্লাহ রুমি
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিষ প্রয়োগে অর্ধ শতাধিক দেশী মুরগী ও হাঁস মেরে ফেলার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় এক জমি মালিকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার দুপুরে ভোক্তভুগী পরিবারগুলোর পক্ষে আব্দুল মজিদ বাদি হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন গিয়ে রাস্তার পাশে ওই সব মুরগী মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
জানা যায়, উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের মালিয়াটি গ্রামের স্থানীয় প্রভাবশালী জমির মালিক সমেদ আলী ফকিরের ৫০ শতক জমিতে আমন ধান রোপন করেছেন। ওই ক্ষেতের পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ২০টি হতদরিদ্র পরিবার বসবাস করে আসছে। পরিবার গুলো অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে দৈনিক কাজের পাশাপাশি প্রত্যেকের গৃহে কিছু হাঁস মুরগী পালন করে আসছে। হঠাৎ করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জমির মালিক সমেদ আলী ফকিরের ছেলে বিপুল ফকির চালের সাথে বিষ মিশিয়ে ক্ষেতের পাশে ছিটিয়ে দিয়ে আসে। এদিকে বুধবার সকালে প্রত্যেকের খোঁয়াড় থেকে হাঁস মুরগী ছেড়ে দিলে ক্ষেতের পাশে পড়ে থাকা বিষ মিশ্রিত চাল খেয়ে ১০টি পরিবারের প্রায় অর্ধশতাধিক মুরগী ও হাঁস মারা যায়। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে হতদরিদ্র পরিবারগুলো।
আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে সমেদ আলী ফকিরের ৫০ শতক জমিতে বরাবরেই মতই ফসল করে নিয়ে যায় কোন সমস্যা হয় না। এবার ওই জমিতে ধান লাগানোর পর আমাদের না জানিয়ে মঙ্গলবার বিপুল ফকির হঠাৎ করে চালের সাথে বিষ মিশিয়ে ক্ষেতের পাশে দেয়। আর সেই বিশ খেয়ে আমাদের অর্ধশতক মুরগী মারা যায়। আমরা গরীব মানুষ আমাদের মুরগীগুলো মরে যাওয়ায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। আমরা গরীব মানুষ তাই এঘটনার বিচার চাই।
বিপুল ফকির বলেন, বেশ কয়েকদিন যাবৎ ক্ষেতে বিষ দিবো বলে তাদের বলে আসছি। জমিতে বিষ প্রয়োগের সময় হওয়ায় বিষ দিয়েছি। পরে শুনেছি তাদের কিছু মুরগী মারা গেছে। কিভাবে মারা গেছে তা আমি জানি না। তবে চালের সাথে বিষ মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগটি মিথ্যা।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাছিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
