উবায়দুল্লাহ রুমি
ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৫) অপহরণ ও ধর্ষণচেষ্টার মামলা করায় আসামিদের হুমকিতে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারছে না বাদী পক্ষ পরিবার। আসামিদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অনাহার অর্ধাহারে যাযাবরের ন্যায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে ২০ জুলাই ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেছে পরিবারটি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের ভাটি চর নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা (৪৩) তার শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে (১৫)কে গত ২৫ নভেম্বর পার্শ্ববর্তী নান্দাইল উপজেলার চর শ্রীরামপুর গ্রামের সাহাদ উল্লাহর ছেলে রায়হান মিয়া (২৫) নামের এক যুবক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে আসামিরা উক্ত প্রতিবন্ধী কিশোরীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে কোনো প্রতিকার না পেয়ে বাদী ময়মনসিংহ জেলা শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নং-১৪/২০২৬ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার বাদী জানান, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আমার অপহৃত প্রতিবন্ধী মেয়ে উদ্ধার হয়। পরে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। মামলা দায়ের পর থেকেই আসামিরা আমাকে ও আমার পরিবারের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১৭ জুলাই বাড়িতে গেলে আসামিরা আমাকে পথ রোধ করে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেয়। অন্যতায় মেয়েকে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে সেভাবে আমাকেও সেই পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে শাসিয়ে যায়। আসামিদের প্রাণনাশের হুমকিতে আমি ও আমার পরিবার বাড়িতে থাকতে না পেরে বর্তমানে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।
এবিষয়ে আসামীপক্ষে উমর ফারুকের পিতা হযরত আলী ও হারুন এর স্ত্রী মিনারা খাতুন জানান, আমাদের উপর আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মেয়ে নিজেই বাড়ি থেকে পালিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী চলে গেছে। পরে কিছুদিন পর নিজ ইচ্ছায় বাড়িতে চলে আসে।
বিষয়টি নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল আজম বলেন, মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। আসামীগন পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। বাদিকে আসামিদের হুমকীর বিষয়টি আমরা অবগত নই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *