মোঃ সামদানি হোসেন বাপ্পী
ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহকে বলা হয় চিকিৎসা নগরী। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আশায় ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ। আর এদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য চরপাড়ায় ময়মনসিংহ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত এবং মানসম্মত বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক।এর পাশাপাশি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে নিম্নমানের অনেক ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতাল। যার ফলে রোগীরা সুচিকিৎসার পরিবর্তে সম্মুখীন হচ্ছে অপচিকিৎসা এবং প্রতারণার। আবার এদের মধ্যে এমনও কিছু ক্লিনিক, হাসপাতাল আছে যারা সাইনবোর্ডেও ব্যবহার করেনা। তারা মূলত দালাল দ্বারা রোগী এনে ভুয়া চিকিৎসা করে রোগীকে করছে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত এবং পরিবারকে করছে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এমনই একটি ক্লিনিক এর সন্ধান পাওয়া গেছে ময়মনসিংহ চরপাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীত পাশে মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর সাথে নিউ সমরিতা প্রাইভেট হাসপাতাল নামে। তিনতলা ফ্ল্যাটের এই ক্লিনিকটি কাগজে-কলমে সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা লিখা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সামনে নেই কোন সাইনবোর্ড। মূলত দালালদের মাধ্যমে রোগী আনা নেওয়ায় চলে এই তিন তলা ফ্লাটের প্রাইভেট হাসপাতালটি। এই প্রাইভেট হাসপাতালের পরিচালক দালাল মোঃ মোতালেব হোসেন দালাল থেকে বনে গেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।সাইনবোর্ড বিহীন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল আহমেদ বলেন আমাদের কোন সাইনবোর্ড লাগে না আমরা নিজেরাই সাইনবোর্ড।অনুসন্ধানে জানাজায় গত ঈদের আগে চুরখাই ইউনিয়নের একজন রোগী সিজার করাতে এসে ডাক্তার ও পরিচালকের গাফিলতির কারণে মারা যায়। পরে বিষয়টি রোগীর পরিবারকে ভয় ভীতি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়। নিউ সমরিতা হাসপাতালের ভিজিটিং কার্ডে লেখা আমাদের রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব, যেখানে করা হয় এক্সরে, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফ এবং রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চেম্বার। কিন্তু বাস্তবের সাথে এর কিছুই মিল নেই। এরা ময়মনসিংহ সিভিল সার্জনের নাকের ডগায় গড়ে তুলেছে চিকিৎসার নামে অপ চিকিৎসার এক বিশাল সাম্রাজ্য।এদেরকে এখনই আইনের আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় না দাঁড় করালে আরো এরকম সাইনবোর্ড বিহীন ক্লিনিক, প্রাইভেট হাসপাতাল গড়ে উঠতে উদ্বুদ্ধ হবে। নষ্ট হবে ময়মনসিংহের চিকিৎসা সেবার শোনাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলার সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা.নজরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আগে দেখে পরে বলতে হবে। এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।
