রানা প্লাজা ছিল একটি আটতলা বাণিজ্যিক ভবন, যা সাভার, ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, ভবনটি ধসে পড়ে, যার ফলে ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং ২৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক গার্মেন্ট কারখানা দুর্ঘটনাগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়।

ভবনটিতে বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস কারখানা, একটি ব্যাংক এবং কিছু দোকান ছিল। ধসের আগের দিন ভবনে ফাটল দেখা গেলেও, শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশের বিল্ডিং নিরাপত্তা মানের ত্রুটি এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের শোষণের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।

উদ্ধারকাজ অসমাপ্ত রেখে মানুষসহ সম্পূর্ণ রানা প্লাজা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা, এমনটি দাবি অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দির। ৯ মাস কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়ে তিনি এ কথা বলেছেন।

চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দি বলেন যে তিনি শেখ হাসিনাকে উত্তরে বলেছিলেন, তিনি শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকার্য চালিয়ে যাবেন। এরকম আরো “অনৈতিক” সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অপ্রিয় হয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

এই দুর্ঘটনা বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করার জন্য নতুন আইন ও উদ্যোগ গ্রহণের দাবি ওঠে। এতে বাংলাদেশে শ্রম আইন পরিবর্তন এবং অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি-এর মতো উদ্যোগের সূচনা হয়, যা দেশের গার্মেন্টস কারখানাগুলির নিরাপত্তা উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *