মোঃ নাসিরউদ্দিন
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহী জেলার প্রায় সব উপজেলায় পাটের বস্তা নিয়ে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট চক্র। আলু উত্তোলনের মৌসুমকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই বস্তার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ী। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
জেলার তানোর, মোহনপুর, পবা, গোদাগাড়ী, বাগমারা, চারঘাট, বাঘা ও দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মাঠে মাঠে এখন পুরোদমে আলু উত্তোলন চলছে। এই সময়ে আলু সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য বিপুল পরিমাণ বস্তার প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঠিক এই সময়টিকেই কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র বস্তার বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকরা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগেও একটি পাটের বস্তা ৬৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও এর দাম ২০০ টাকারও বেশি নেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ করে এমন দ্বিগুণের বেশি মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
মোহনপুর উপজেলার এক আলু চাষি বলেন, “আমরা আলু তুলে বস্তা না পেলে কোথাও রাখতে পারি না। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে আমাদের লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না।”
বাগমারা উপজেলার আরেক কৃষক জানান, “গত বছর এক বিঘা জমির আলুর জন্য বস্তা কিনতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। এবার একই পরিমাণ বস্তার জন্য ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগছে। শুধু বস্তার কারণেই অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।”
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ বস্তা আলু উৎপাদন হয়। প্রতিটি বস্তায় ৬০-৬৫ কেজি আলু রাখা হয়। ফলে বস্তার দাম দ্বিগুণ হওয়ায় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বাজারে কোনো কার্যকর মনিটরিং না থাকায় বস্তা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে হিমাগার সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু ব্যক্তি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫০ কেজির বস্তা ব্যবহারের কথা থাকলেও অধিক মুনাফার আশায় বাজারে ৭০ কেজির বস্তা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে, অন্যদিকে আইনও উপেক্ষিত হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, উপজেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরকে দ্রুত মাঠে নেমে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে।
