নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ২ নম্বর ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষকুন্ডী মেইন রোড থেকে জামরুলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মিটার দীর্ঘ সদ্য নির্মিত একটি ইট বিছানো (সোলিং) রাস্তার কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাস পার না হতেই পুরো রাস্তাটি নড়বড়ে ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও নামমাত্র কাজের কারণে সরকারের লাখ লাখ টাকা জলে গেছে।
প্রকল্পের বিবরণ ও অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে ধোঁয়াশা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মহিষকুন্ডী মেইন রোড থেকে জামরুলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মিটার এই রাস্তাটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হয়। প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় আরও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের পরিমাণ বাড়লেও কাজের মানে তার ন্যূনতম ছোঁয়া লাগেনি। প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট না করে, নিম্নমানের ইট ও অপর্যাপ্ত বালু ব্যবহার করে এবং রোলার দিয়ে মাটি ও ইট শক্ত না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হয়। এর ফলেই মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ১৫০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তার ইটগুলো বসে গিয়ে বেহাল দশার সৃষ্টি করেছে।
প্রকল্প সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের প্রকল্প সভাপতি আমিনুল ইসলাম। স্থানীয়দের দাবি, কাজের শুরুতেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করা হলেও প্রকল্প সভাপতি ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তা ধামাচাপা দেন।
মহিষকুন্ডী এলাকার এক ভুক্তভোগী বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মহিষকুন্ডী মেইন রোড থেকে জামরুলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১৫০ মিটারের এই রাস্তাটি আমাদের চলাচলের প্রধান ভরসা ছিল। কিন্তু প্রকল্প সভাপতি আমিনুল ইসলাম নিজের স্বার্থে নামমাত্র কাজ করে বিল তুলে নিয়েছেন। সামান্য এই রাস্তাটি দুই মাস যেতে না যেতেই ধসে পড়ছে, ইট নড়ে গেছে। এখন এই রাস্তা দিয়ে ভ্যান-রিক্সা তো দূরের কথা, হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।”
তদন্ত ও পুনরায় টেকসই নির্মাণের দাবি
প্রায় ১৫০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তার বর্তমান বেহাল দশার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে দুর্নীতি দমন ও সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রকল্প সভাপতি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মহিষকুন্ডী মেইন রোড থেকে জামরুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি পুনরায় টেকসইভাবে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
