নিজস্ব প্রতিনিধি
৭ ডিসেম্বর ২০২৪, রোজ শনিবার মো: সেকান্দর, পিতা মৃত আব্দুল গফুর, ভরাপাড়া কেন্দুয়া, নেত্রকোণা এবং একই গ্রামের আল মামুন সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, বিগত ৩০ মে ২০২২ সালে ভরাপাড়া গ্রামে মরহুম আলী নেওয়াজ তালুকদারের বাড়িতে একটি রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত বাড়ির মরহুম এড. আব্দুল আজিজ তালুকদার ও মরহুম এড. আব্দুল মজিদ তালুকদারের পরিবারের লোকজন এবং বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুল কুদ্দুস ও তার ২য় তরফের স্ত্রী এবং স্থানীয় কুচক্রি মহল একত্রিত হয়ে মো: সেকান্দার ও কেয়ারটেকার আব্দুল কুদ্দুসের ১ম তরফের ছেলে আল মামুনকে মিথ্যা চোর সাব্যস্ত করে।
ঘটনার ৪৫ দিন পর বাড়ির কেয়ারটেকার আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় চুরির মামলা দায়ের করে। কেন্দুয়া থানার এফআইআর নং ২১/২৬৫, তারিখ ১৫/০৭/২০২২ ইং। উক্ত মামলায় মো:সেকেন্দার কে ১ নং আসামী তার ছেলে আমীর সোহেলকে ৩ নং এবং আল মামুনকে ২ নং আসামী করে। এজাহারে ৩ জনকে সন্দেহ জনক চোর হিসাবে উল্লেখ করা হয়। কোন প্রকার জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই কেন্দুয়া থানা পুলিশ আমীর সোহেলকে গ্রেফতার করে।সেকেন্দার ও আল মামুন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নেত্রকোণা কোর্টে আত্মসমর্পণ করলে জামিান নামঞ্জুর হয়। ৩ জনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানা পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। মামলা দায়েরের পর উকিল পরিবারের লোকজন মিথ্যা অপপ্রচার শুরু করে ফলে নেত্রকোণা আদালতে উকিল নিয়োগে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ৩ জনের জামিন হয়।
মরহুম এডভোকেট আব্দুল আজিজ তালুকদারের ছেলে মাসুদুল আজিজ টিটো এবং তার বোন জামাই ডাক্তার আব্দুল বারী এবং মরহুম আব্দুল মজিদ তালুকদারের ছেলে মুশফিকুল সিরাত সহ আরো কতক ষড়যন্ত্রকারীরা মামলা দায়েরের পূর্বে ও পরে প্রকাশ্যে জোরজবরদস্তি মূলক চুরির স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য নানা ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী দিয়ে আসছিল। অপরদিকে উক্ত বাড়ির একাংশের মালিক মরহুম মুফতি ফজলুল হকের পরিবার কেন্দুয়া থানায় দায়ের করা চুরির মামলা নং ২১/২৬৫ (১৭/০৭/২২ ইং) এর এজহারের বর্ণনা পড়ে চুরির ঘটনাটি মিথ্যা বানোয়াট বলে দাবী করেছে। কারণ বাদীর এজহারের বক্তব্য এবং মামলা দায়েরের পূর্বের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরিত।
পরবর্তীতে কেন্দুয়া থানার তদন্ত রিপোর্ট এবং ডিবি নেত্রকোণার চুরান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী উক্ত রহস্যজনক চুরির ঘটনার সাথে ৩ জনের সম্পৃক্ততা নেই বলে প্রমাণিত হয়। এরপর বাদীপক্ষ ডিবির চুরান্ত রিপোর্টের উপর আপত্তি দিলে বিজ্ঞ আদালত আপত্তি মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তীতে পিবিআই নেত্রকোণা চুরির মামলাটি পুণরায় তদন্ত করিলে উক্ত রহস্যজনক চুরির ঘটনার সাথে ৩ জনের সম্পৃক্ততা নেই বলে প্রমাণিত হয়। এভাবেই ৩ জন একটি রহস্যজনক চুরির মামলার সন্দেহভাজন আসামী হয়ে প্রায় ৩ বছর যাবত আদালতে হাজিরা দেন।
অবশেষে বিগত ২ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখ ৩ জন কেন্দুয়া থানায় দায়ের করা চুরির মামলা-২১/২৬৫ হতে অব্যহতি পায়। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সেকেন্দার জানতে পারে রহস্যজনক চুরির ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিন তদন্ত করে সত্য সংবাদ প্রকাশ করেছিল।সেজন্য তারা গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এবং এই মিথ্যা ঘটনার প্রকৃত রহস্য সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানান।
