মোঃ মানিক মিয়া
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
রংপুরের সর্ববৃহৎ উপজেলা মিঠাপুকুর। দেশের এবং জেলার অন্য সব উপজেলার চেয়ে এখানে শান্তি-শৃঙ্খলা ও জনসাধারণের নিরাপত্তায় পুলিশকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে মাদক ও জুয়ার বিষয়টি অনেকটা চাপা পড়ে যায়।
তবে আবু বক্কর সিদ্দিক মিঠাপুকুর থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক ও জুয়ায় বিশেষ নজর দিয়েছেন। তার চৌকসতায় মাদক কারবারিরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ এক যুগ পর কয়েকজন শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারসহ সর্বাধিক মাদক মামলা দায়ের করে প্রশংসা পাচ্ছেন ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক।
ওসি আবু বক্কর সিদ্দিকের কার্যক্রম
জানা যায়, আবু বক্কর সিদ্দিক গত ৫ নভেম্বর মিঠাপুকুর থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। তার যোগদানের পূর্বে দেশের চলমান পরিস্থিতির সুযোগে মিঠাপুকুরে বেড়ে গিয়েছিল জুয়া, মাদক, চুরি, ছিনতাইসহ চাঁদাবাজি। দায়িত্বগ্রহণের মাত্র ১ মাস ৮ দিনেই তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটান। অপরাধ প্রবণতা কমাতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ধর্মীয়, ছাত্র প্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক, অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবে তরুণ ও ছাত্র সমাজকে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন। যার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চাপে পড়ে অনেক মাদক কারবারি মাদক বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন শীর্ষ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক যুগ ধরে মিঠাপুকুরে যেসব চিহ্নিত মাদক কারবারি পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিল, তারা এখন জেলে, বাকিরা আতঙ্কে রয়েছেন।
মিঠাপুকুর থানায় গত এক মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল মাদক উদ্ধারসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, এবং জুয়ার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে তিনি প্রশংসা পাচ্ছেন। মিঠাপুকুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিপুল বলেন, “ওসিকে একটু কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। চলমান অবস্থায় দ্রুতগতিতে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।”
ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে কোনো আপোষ নয়। যেখানে যে অবস্থায় আমাদের কাছে তথ্য আসবে, সেখানে সে অবস্থায় আমরা অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। পাশাপাশি চুরি ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ কাজ করছে।”
