রেজাউল করিম রেজা
ময়মনসিংহে স্টিল আর্চ সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মানে ভাংছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ মার্কেট ঘরবাড়ি সহ বহু স্থাপনা, কম দূরত্বে মহাসড়কে সংযোগ না দিয়ে ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে দ্বিগুনের বেশী জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্লানিংয়ে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ক্ষতির আশংকা স্থানীয়দের, পাঁচ প্রস্তাবনা থেকে ভালোটা বেছে নেয়া হয়েছে জানালেন স্টিল আর্চ সেতু প্রকল্প কর্মকর্তা।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের যানজট নিরসন সহ সারাদেশের সাথে সড়ক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক বাড়াতে কেওয়াটখালী ব্রহ্মপুত্র নদের উপর দেশের বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন স্টিল আর্চ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ৩ হাজার দু’শ কোটি টাকা ব্যয় ধার্যে সম্প্রতি এ সেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেওয়াটখালী ব্রহ্মপুত্র নদের স্টিল আর্চ সেতুর সংযোগ সড়কটি রেল লাইনের পাশ দিয়ে সোজা শম্ভুগঞ্জ মুটকি ভাঙ্গা সড়ক সেতুতে লাগার কথা। অত্যাধুনিক এ স্টিল আর্চ সেতু নির্মান নিয়ে সাধারণ মানুষের উৎফুল্লতা থাকলেও সেতুর সংযোগ সড়কের প্রকল্পের ব্যয় ও প্ল্যানিং নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা..
১। ভক্সপপ ২ জন স্থানীয় লোকজন
শম্ভুগঞ্জ মুটকি ভাঙ্গা রেল সেতু থেকে (ময়মনসিংহ কিশোরগঞ্জ নেত্রকোনা শেরপুর মহাসড়কে) ঝাউগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মুটকি ভাঙ্গা সড়ক সেতুর দূরত্ব ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার। অথচ মুটকি ভাঙ্গা রেল সেতুর পাশ দিয়ে সংযোগ সড়কটি রেললাইনের উপর দিয়ে ঘুরিয়ে চায়না মোড় হয়ে আবার মুটকি ভাঙ্গা সড়ক সেতুতে লাগানো হচ্ছে। যে কারনে দূরত্ব বাড়ছে ১৫০০ মিটারের মতো। এতে চায়না মোড়ের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘরবাড়ী সহ বহু জমি গাছপালা অধিগ্রহণ করা হচ্ছে, বাড়ছে রাস্ট্রের ব্যয়, আবার ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছেন সাধারণ মানুষজন । বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সাথে দফায় দফায় বৈঠকও করছেন সেতু প্রকল্প কর্মকর্তারা।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পটি সরেজমিনে দেখলে যে কেউ বলবেন এসব অধিগ্রহন ও বাড়তি সড়ক নির্মানের ফলে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে শত শত কোটি টাকা। তারা জানান, মুটকি ভাঙ্গা রেল সেতু থেকে মুটকি ভাঙ্গা সড়ক সেতু পর্যন্ত রাস্তাটি সংযোগ দিলে সরকারের কয়েশো কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অর্থ অপচয় বন্ধে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা
২। ভক্সপপঃ তানিয়া দুই ভুক্তভোগী
এদিকে ভূমি অধিগ্রহণে কোন অনিয়ম হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন জেলা ভূমি অধিগ্রহণ অফিস। জেলা কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুল হক জানান, সেতু ঘীরে মোট জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে ৮০ একর। জমি অধিগ্রহণ তিনটা ভাগে করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন একটি ভাগে অধিগ্রহণে ৭৪ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, বাকী দুটো ভাগের ব্যয় এখনো নির্ধারণ হয়নি। তিনি বলেন কতটুকু জমি নেবেন সেটা নির্ধারণ করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা, আমরা শুধু জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সমাধানে সহযোগিতা করে থাকি…
সটঃ মোঃ মাহফুজুল হোক
জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ময়মনসিংহ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টিল আর্চ সেতু প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ দিদারুল আলম তরফদার জানান, বিয়ে করতে গেলে মানুষ পাঁচটি পাত্রী দেখে, যেটি পছন্দ হয় সেটি বিয়ে করে, আমরাও পাঁচটি প্লান করেছি, যে পছন্দ হয়েছে সেটি একনেকে পাশ হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের খরচ ব্যয় কমাতে নির্দেশ দিয়েছেন.. সম্প্রতি মিডিয়াতে এমন সংবাদ প্রচার হয়েছে… তাছাড়া ঘুরিয়ে প্যাচিয়ে সেতু সংযোগ সড়ক নির্মানে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়ছে কিনা এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সেতু প্রকল্প কর্তা দিদারুল আলম বলেন, প্রকল্পটি একনেকে পাশ হয়েছে কিছু বলার নাই… সেতু সংযোগ সড়ক নির্মানে অতিরিক্ত অর্থ অপচয় হচ্ছেনা বলেও জানান তিনি।
সটঃ মোঃ দিদারুল আলম তরফদার
নির্বাহী প্রকৌশলী, রোডস্ এন্ড হাইওয়ে ডিপার্টমেন্ট ও
প্রজেক্ট ম্যানেজার
ময়মনসিংহ কেওয়াটখালী স্টিল আর্চ সেতু প্রকল্প।
স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষদের দাবি অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে স্টিল আর্চ সেতুর সংযোগ সড়কটি বাঁকা না করে সোজাসুজি নির্মান সংযোগ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের রক্ষা ও রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাবেন যথাযথ কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ও সুধী মহলের।
