নিজস্ব সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের মহারাজা রোডে সরকারি বৈধ লিজকৃত জমিতে বসবাসরত মোহাম্মদ হুমায়ুন শওকত আলী ২০০ বছরের অধিক কাল বসবাসরত ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন। ময়মনসিংহ টাউন মৌজার ২৯ নং মহারাজা রোড, আর ও আর খতিয়ান ১৮০৬ , আর ও আর দাগ নং ৯৬৮৮, মোট জমির পরিমাণ ৫৯ শতাংশ। ইতোমধ্যে আলীজান গং সহ আরো কত কতিপয় ব্যক্তি অগোচরে অর্পিত ট্রাইবুনাল মোকাদ্দামা দায়ের করেন। এ সম্পর্কে আমরা লীজ গ্রহীতারা কখনো অবগত ছিলাম না। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি আলীজান গং এর বিরুদ্ধে ‌ সরকার বাহাদুর মোট চারটি আপিল মামলা দায়ের করেন। যাহার নম্বর 7/23,85/22,22/20,59/22 অর্পিত (আপিল) দায়ের করলে, আমরা উক্ত আপিল সম্পর্কে অবগত হই। আমরা উক্ত আপিল সমূহের তৃতীয় পক্ষ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হই। বিগত ৫-১০ -২০২৩ তারিখ বিজ্ঞ বিচারকের অনুপস্থিতির কারণে শুনানি করা সম্ভব হয়নি। ২০০ বছরের অধিক কাল যাবত ‌ জমিদারগনের ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা করে আসিতেছি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর উক্ত জমি সরকারি অর্পিত সম্পত্তিতে পরিণত হয়। আমরা সরকারের অনুকূলে ‌ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে 85/22‌ নংএ লিজ প্রাপ্ত হয়ে নিয়মিত লিজ মানি পরিশোধ করছি। ১৯৪৭ সালে বিভাজনের পূর্বে ভারতের বিহার রাজ্য থেকে আগত‌ আলিজান মিয়া এখানে এসে ‌ শতদল বিহারী চাকলা দাড়ের‌ অনুগ্রহে খালি জায়গায় ‌ পানের দোকান বসায়। অনেকেই তৎকালীন সময়ে দেশ ত্যাগ করার ফলে আলীজান মিয়া কৌশলে অনেক সম্পত্তির দখলে নেয়। কিছুদিন পূর্বে মৃত আলীজান গং ‌ এর পক্ষ ভুক্ত লোকেরা ‌ মিথ্যা বানোয়াট মামলার মাধ্যমে কিছু সরকারি কর্মচারীর সহযোগিতায় বিবাদী পক্ষকে হাজির না করে নিন্ম আদালত থেকে একটি ডিগ্রি লাভ করে। ফলে বৈধ লিজ গ্রহীতা হিসেবে আমরা সংক্ষুব্ধ হই ও ময়মনসিংহের বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে‌ সরকারপক্ষ আপিল মোকদ্দমা রজু করে। অনুসন্ধানে দেখা যায় নিন্ম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় বেআইনি ও ভিত্তিহীন। বর্তমানে মৃত আলীজান মিয়ার পক্ষভুক্ত নাসিম ও কামাল গং তিন, চারটি তুলাধোনার মেশিন স্থাপন করে যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও এলাকার পরিবেশ দূষিত করছে। তারা তোলাধোনার জন্য ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা দখলে নেয়। এই রাস্তা দিয়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা ও একটি হিন্দু পরিবার যাতায়াত করে। পানি নিষ্কাশনের রাস্তা বন্ধ হওয়ায় হিন্দু পরিবারটি অমানবিক দিনযাপন করছেন। অন্যদিকে আরেক সরকারি ভূমি গ্রাসকারী জুয়েল ও রয়েল অবৈধ দলিল মূলে জায়গায় অবৈধভাবে দ্বিতল স্থাপনা নির্মাণ করে। এ বিষয়ে সংবাদপত্রে খবর প্রচারিত হলে ‌ ভিপি সেকশন থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিন পর তারা পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করে এর পিছনে অংশে দুটি গেট নির্মাণ করে। যার কারনে আবাসিক এলাকার ভিতরের নারী ও শিশুদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে ও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইতোপূর্বে তারা এই পরিত্যক্ত ভবনে মাদক দ্রব্য সহ ধরা পড়ে যা স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মেয়র ইকরামুল হক টিটু উক্ত গেট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু উল্লেখিত ব্যক্তিরা মাননীয় মেয়র এর নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধ নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এদিকে বৈধ লিজ গ্রহিতারা সরকারের সব পাওনা সময়মতো পরিশোধ করছেন। অন্যদিকে ভূমিদস্যুগণ রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন। এটি একটি রাষ্ট্রবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধ। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের নিবেদন এই যে উল্লেখিত ভূমি রক্ষায় প্রশাসন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযত পদক্ষেপ নিয়ে ভূমধ্যস্যদের কবল থেকে রক্ষা করবেন ও বিরোধী চক্রকে প্রতিহত করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের হেফাজত করুন।

By news

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *